রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোয়ালন্দে হালিম মিয়া কলেজের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরন, রোপন ও রেলী অনুষ্ঠিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হত্যার হুমকির পর ইরানকে পাল্টা হুমকি ট্রাম্পের ভোলায় পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের হামলা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৬ গাড়িতে আগুন বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস বাগেরহাটে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মিলল বিএনপি নেতার লাশ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন আমলাদের খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ যাওয়ার দিন শেষ: শিক্ষামন্ত্রী

৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ টাইম ভিউ
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা। ছবি- সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে ১০ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে আছে।  শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ৬ জেলার প্রধান ৫ নদীর ৭ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

বুলেটিনে বলা হয়, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলেও এতে জানানো হয়।সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, ভারী বর্ষণ চলতে থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ধীর হবে। তবে, এরপর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে, আগামী ১-৩ দিনের মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে ৩ দিন পর এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে সাঙ্গু নদী বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার ও দোহাজারীতে ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরি নদী বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারে মনু নদী বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোণার কমলাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী তিন দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে মোট ৩০০-৪৫০ মিলিমিটার এবং উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ২৫০-৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

এফএফডব্লিউসি আরও জানায়, কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভোগাই-কংস নদীর পানিত স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কয়েকটি স্থানে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।

তবে, মনু, ধলাই এবং খোয়াই নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে কমছে। অর্থাৎ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে সম্প্রতি মুহুরি, ফেনী ও সেলুনিয়া নদীর পানির স্তর বেড়েছে এবং আগামী ২ দিন তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে এই নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হবে।

উত্তরাঞ্চলে অর্থাৎ রংপুর বিভাগ আগামী ৩ দিন ধরে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব জেলার নিচু এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর