বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশের বাধা পেয়ে সড়কে বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চট্টগ্রামে সাংবাদিকের চলন্ত গাড়িতে গুলি ভারতীয় গরুর ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত মারামারি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিলো পুলিশ, নেতাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত: কূটনীতি, সংস্কার ও শিল্প অর্থনীতির প্রত্যাশা ব্যক্তিগত সফরে সস্ত্রীক যুক্তরাজ্যে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি  মধ্যরাতে দোহারে পুলিশের অভিযান, ২০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুলে জাতির ভাগ্যে বারবার হতাশা :চরমোনাই পীর

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ টাইম ভিউ
শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুলে জাতির ভাগ্যে বারবার হতাশা :চরমোনাই পীর
ছবি-সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামকে ক্ষমতায় নিতে কাজ করতে হবে। শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে বারবার এমন হতাশা নেমে আসে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, চব্বিশের এ উত্তাল দিনগুলোতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে রেখেও রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। চব্বিশের এই দিনেও বায়তুল মোকাররমে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশ ও মিছিলে আমি ও আমার যুবকর্মীরা ছিলাম। আমাদের ওপরও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী।

তিনি বলেন, আমি ও আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবাই সেদিন গুলির মুখে লড়াই করেছি। আমি সেদিনই বলেছিলাম, যত শক্তিশালীই হোক, ফ্যাসিবাদের পতন হবেই ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন করেছিল সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি অভ্যুত্থান-সংগ্রামের পরেই দেশ এমন শক্তির হাতে গেছে যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা নিরাপদ নয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ১৯ জুলাই ২০২৪, তথা আজকের এই দিনে ঢাকায় পীর সাহেব চরমোনাইয়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত যুব আন্দোলনের সমাবেশে এবং মিছিলে পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি করে শতাধিক যুবনেতাকে আহত করে। জুলাই অভ্যুত্থানে পীর সাহেব চরমোনাই দলীয় প্রধান হিসেবে যেভাবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়নি। কিন্তু অনেক দলের মধ্যে আজ জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নিয়ে টানাটানি ও সুবিধা গ্রহণের প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা লজ্জাজনক।

তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির সময় এনসিপি অনেক বিষয়ে বিএনপির পক্ষ নেওয়ায় অনেক প্রস্তাবই চূড়ান্ত করা যায়নি। কিন্তু পরে নির্বাচনের সময় এনসিপি আবার বিএনপি-বিরোধী শিবিরে যুক্ত হয়েছে। যা প্রতীয়মান করে জুলাই পরবর্তী নির্বাচনে পাতানো খেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি সংসদে একজন বিএনপি নেতা বলেছেন নির্বাচনের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। আমরা চাই সব টালবাহানা বাদ দিয়ে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন ও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মানুষের পালস বুঝে মানুষের কাছে করা ওয়াদা পালন করুন, অন্যথায় দেশ-জাতি ও ইসলামের স্বার্থে আবারও রাজপথে নেমে আসবো ইনশাআল্লাহ।

প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, এখনো ভারতীয় দালালরা দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থান করছে। দেশ বাঁচাতে সবাইকে ভারতের দালালদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দুনিয়ার সব স্বার্থকে উপেক্ষা করে শুধু ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে। তাই শুধু ক্ষমতা নয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। ইসলাম, দেশ ও মানবতার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও তাদের মধ্যে পতিত স্বৈরাচারের কিছু ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর ক্ষমতায় আসার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে পরিণতি হবে পতিত স্বৈরাচারের মতোই। জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এখনো স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। প্রকৃত মুক্তি পেতে হলে যারা সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে এমন আল্লাহভীরু নেতৃত্বকে সুযোগ করে দিতে হবে।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওবায়দুল্লাহ আল মামুন, যুব আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দীক, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, নগর উত্তরের সভাপতি হাম্মাদ বিন মোশাররফ, নগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন হুজাইফ, বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান জুনায়েদ প্রমুখ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর