দেশের পুঁজিবাজারে নতুন ও মানসম্মত কোম্পানির পদচারণা বাড়াতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেট সত্ত্বা সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে; তার সুস্পষ্ট শর্তাবলি নির্ধারণ করে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিএসইসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মূলত সাতটি ক্যাটাগরির কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে; কমপক্ষে ৫১ শতাংশ সরকারি মালিকানাধীন বা শতভাগ সরকারি কোম্পানি; অন্তত ১০ শতাংশ সরকারি শেয়ার থাকা প্রতিষ্ঠান; সম্পূর্ণ বা ন্যূনতম ৫১ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি; ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকার নিট সম্পদমূল্যের তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি; বছরে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা টার্নওভার থাকা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান; স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও ক্লিয়ারিং কোম্পানি এবং বিএসইসি কর্তৃক ঘোষিত বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে দেশে প্রথম সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধিমালা চালুর পর রাষ্ট্রায়ত্ত ডেসকো, পাওয়ার গ্রিড, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও তিতাস গ্যাসের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের শাইনপুকুর সিরামিকস ও নাভানা সিএনজিসহ মোট ১০টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে এসেছিল। তবে ২০০৯ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সিদ্ধান্তে এই সুবিধাটি কেবল সরকারি কোম্পানির জন্য সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিএসইসির এই নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে দীর্ঘ দেড় দশক পর বড় আকারের দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক বহুমাত্রিক কোম্পানির জন্য আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে প্রবেশ করার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।