রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছাদে বেকারি দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসায় সম্ভাবনা: ইনজেকশনেই নির্মূল হবে টিউমার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২, ৬ মাসে সর্বোচ্চ: এমএসএফ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন সোমবার হবিগঞ্জে ৩ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ১ জুন থেকে কার্যকর সামনে কঠিন সময় ,হেসেখেলে চলে গেলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই আকাশে দেখা মিলবে বিরল ব্লু মুন

মিরপুরে আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ: মাদক বাণিজ্য রমরমা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ১৩৭৭ টাইম ভিউ

কে.এম. তানজীদুল চৌধুরী রিফাত : চলমান রমজানের মহা পবিত্রতাকে উপেক্ষা করে রাজধানীর মিরপুরের বেশ কয়েকটি চিহ্নিত আবাসিক হোটেলে প্রকাশ্য দিবালোকেই চলছে রমরমা দেহব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ ।

এলাকাবাসীর দাবি, হোটেল রয়েল আবাসিক ও হোটেল বাগদাদ আবাসিকে একজন নারীর সাথে ৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা হারে ঘন্টা চুক্তিতে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। রঙ্গলীলায় পুরো রাত কাটাতে হলে গুনতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। এছাড়া শ্রেনীভেদে নারীদেরকে দিতে হয় আরো কয়েক হাজার টাকা। যার ভাগ পান হোটেল মালিকগণও। আর বেশি অর্থ উপার্জনের লোভই হোটেল মালিকদের এই জঘন্য কাজে লিপ্ত করেছে।

এলাকাবাসী আরো জানিয়েছেন, হোটেল বাগদাদ ও হোটেল রয়েল আবাসিকের মালিক স্থানীয় প্রভাবশালী সুরুজ মিয়া নামে এক ব্যাক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘ দিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ।

অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মিরপুর এক নম্বরের হোটেল বাগদাদ,হোটেল রয়েল আবাসিক,হোটেল ডায়মণ্ড,টাইম স্টার,গোল্ড স্টার,মামুন হোটেল,প্রিন্স হোটেল,শাপলা হোটেল,মিরপুর-১০ নম্বরের বৈশাখী হোটেল,গাবতলী বাস টার্মিনালসহ গোটা মিরপুরের প্রায় সবগুলিই আবাসিক হোটেলেই কমবেশি অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে প্রকাশ্য দিবালোকেই।

এলাকাবাসী আরো জানান, মাত্র বছর কয়েক আগেই এই সুরুজ মিয়া মিরপুরের ফুটপাতে দুটি ঝুড়িতে করে বিক্রি করতেন মরিচ। ফুটপাতে বসে খুচরা মরিচ ব্যবসার সুবাদে দু’একজন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ফুটপাত ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে সংশ্লিষ্টদের নিকট পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পান সুরুজ। বিনিময়ে তিনিও আদায়কৃত চাঁদার দু’চারশ টাকা ভাগ পেতেন। সেসময় মাজার শরীফের আশপাশসহ মিরপুর এক নম্বরের পুরো সড়কজুড়ে বসতো রাত্রীকালীন কাঁচাবাজারের বিশাল আড়ৎ। একজন খুচরা মরিচ ব্যবসায়ী হিসেবে সারারাত জেগে কাজ করায় এসব অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী চক্রের এক সক্রিয় সদস্যের সাথে পরিচয় হয় সুরুজ মিয়ার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ধীরে ধীরে নিজেই পুরোপুরিভাবে জড়িয়ে পড়েন আবাসিক হোটেল সংশ্লিষ্ট দেহব্যবসায়। রাতের ঢাকায় রাজধানীর ওভারব্রীজগুলো কেন্দ্রীক যেসকল যৌনকর্মী নারীরা দেহব্যবসা করেন এবং এসকল যৌনকর্মী নারীদের ঘিরে যে ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট রয়েছে-তাদের নিয়ন্ত্রনের বিরাট দায়িত্বেও নিয়োজিত এই সুরুজ মিয়া। শুরুতে হোটেল বাগদাদের একজন ব্যবসায়ীক পার্টনার হিসেবে দেহব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তিনি মিরপুর,গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৭ টি আবাসিক হোটেলের দেহব্যবসা নিয়ন্ত্রন করেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, সম্প্রতি হযরত শাহ আলী (রঃ) মাজার শরীফের প্রধান প্রবেশপথের বিপরীতে একক মালিকানায় হোটেল রয়েল আবাসিক নামে একটি আবাসিক হোটেল পরিচালনা করছেন সুরুজ মিয়া। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা প্রকাশ্য দিবালোকেই নারী পুরুষের ওঠানামার সিরিয়াল লেগেই থাকে। এছাড়াও হোটেল বাগদাদ ও হোটেল রয়েল আবাসিকে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চলছে রমরমা মাদক বানিজ্য। এমনকি গভীর রাতে বিশাল পরিসরে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে।

নিয়মানুযাী হোটেলে যে কোনো বর্ডারের আগমন হলে তাদের সঠিক ঠিকানা যাচাই করে তাদের রেজিষ্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা ও ছবি তুলে রাখার কথা থাকলেও অভিযুক্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ মানছেন না এই নিয়ম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,গভীর রাতে রাজধানীর কোথাও অবাধে চলাফেরা না করা গেলেও মিরপরের হযরত শাহ্ আলী (রঃ) মাজার শরীফ কেন্দ্রীক এলাকাজুড়ে দিনরাত অবাধে চলাফেরা করতে পারেন যে কেউ। বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে পালিয়ে,ব্যাক্তিগত কাজ,অন্যান্য কারনসহ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বিভিন্ন নারী-পুরুষ কোন আশ্রয় না পেলে এই মাজারে আশ্রয় নেন। আর এসব হোটেলের নিয়োজিত বিভিন্ন দালালেরা মাজার কেন্দ্রীক আশ্রয় নেয়া অসহায় নারীদেরকে টার্গেট করে মিষ্টি মিষ্টি কথার জালে ফাসিয়ে আশ্রয় দেয়ার অজুহাতে সুকৌশলে ফুসলিয়ে মাজারের সামনের হোটেল রয়েল আবাসিক, হোটেল বাগদাদ আবাসিকসহ আশপাশের বিভিন্ন হৌটেলে নিয়ে যায়।

এমনকি অসহায় আশ্রয়হীন মেয়েগুলোকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচার করে দেয় এসব দালালেরা। এই কাজেও সক্রিয় ভাবে হোটেল মালিক-পরিচালকগণ তাদেরকে সহযোগিতা করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, হোটেল গুলোর মালিক-পরিচালকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পাননা। তাছাড়া পুলিশের দুএকজন অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথেও তাদের সুম্পর্ক রয়েছে। ফলে এসকল অপকর্ম করতে তাদের তেমন কোন বেগ পেতে হয় না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ সত্য হলে এসব আবাসিক হোটেলগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর