সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বিশ্বজুড়ে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি উত্তর সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ বন্যা পুনর্বাসনে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক মডেল চালু করা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী গোন্ডারিয়ায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই: কৃষিমন্ত্রী তিন জেলায় নতুন এসপিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে রদবদল ‘পাত্তা দেওয়ার দরকার নাই’, মত প্রকাশে সরকার ‘উদার’: তথ্য উপদেষ্টা তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে: সংসদে বিমানমন্ত্রী

অসহনীয় লোডশেডিং: দিনে গরমে হাঁসফাঁস, সন্ধ্যায় দেশজুড়ে অন্ধকার

সময়ের আওয়াজ ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

 দেশে বেড়েছে লোডশেডিং, ফলে দিনে-রাতে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। সেই সঙ্গে সন্ধ্যা নামার পর লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে অন্ধকার নেমে আসছে দেশের অনেক এলাকায়।

বিদ্যুতের এই বেহাল দশা অবশ্য ভাদ্র মাস আসার আগেই, আগস্টের শুরুতে। সে সময় গ্যাসের সংকট তীব্র হয়। ফলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল ওই সময়। মাঝে কিছুদিন লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কমলেও আগস্টের শেষ দিকে এসে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ ঘাটতি। আজ রোববার বিকেল ৪টার দিকে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াট।

এর আগে গত ৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হয়। ওই সময় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) গত দুই দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দিনে-রাতে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। মধ্যরাতের দিকে লোডশেডিং ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে উঠে যাচ্ছে। এটি মোট চাহিদা থেকে প্রায় ২০ শতাংশ কম। ফলে দেশের অধিকাংশ এলাকার কোথাও না কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে।পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার দুপুর ১২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৭৮ মেগাওয়াট। সে সময় সরবরাহ হচ্ছিল ১২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট। বিকেল ৪টার দিকে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে ৩ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াট হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ১২ হাজার ৮৫৪ মেগাওয়াট হয়। এ সময় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ৪৯ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট এবং ভারতের আদানি থেকে ১ হাজার ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল। এ সময় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট।

পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও আশানুরূপ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি-বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিপিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পিডিবির অনুরোধে গত এক সপ্তাহে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য অন্তত ২০ হাজার টন ফার্নেস তেল দেওয়া হয়েছে, যা তাদের বার্ষিক সূচির দ্বিগুণ।

ঢাকায়ও বেড়েছে লোডশেডিং

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকায় গ্রাম ও উপজেলা শহরগুলোর মতো করে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে আবাসিক এলাকাগুলোয় দিনে ৩-৪ বার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একেকবার গেলে এক ঘণ্টার আগে ফিরছে না। রোববার সন্ধ্যার পরপরই রাজধানীর বনশ্রী, খিলগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে এক ধরনের ভুতুড়ে অন্ধকার নেমে আসে নগরের অনেক এলাকায়।

অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো

ইরান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার পর পিডিবি বলেছিল, তারা কয়লাসহ অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়াবে। কিন্তু গত কয়েক দিনে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন দিতে পারছে না। পিডিবির হিসাবে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। সেখানে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় উৎপাদন হচ্ছিল ৪ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটে বর্তমানে উৎপাদন সক্ষমতা ৪৪৪ মেগাওয়াট। কিন্তু সেখানে ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে ইভিনিং পিক আওয়ারে (রাত ৯টায়) মাত্র ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। কয়লার সংকটে ভারতের আদানি পাওয়ারের উৎপাদনও কমেছে। সেখানে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা থাকলেও দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে।

পটুয়াখালীতে আরপিসিএল নরিনকোর যৌথ প্রতিষ্ঠান আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। সেখানেও কয়লার সংকট রয়েছে। সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট।

রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লা সংকট রয়েছে। সেখানেও সর্বোচ্চ উৎপাদন ৯২০ মেগাওয়াটের বেশি উঠছে না। মাতারবাড়ী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন ৫৫৮ মেগাওয়াট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে আছে।

সবচেয়ে দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি মেশিনে সমস্যার কারণে অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। মাত্র ৫১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে সেখান থেকে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএসপাওয়ার।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর