ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মোট ১৪ বারের মতো পিছিয়েছে এই প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা। আজ রোববার (১৭ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এই দিন নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত দিনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ দেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য-সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। ডিবির তদন্তে অসন্তোষ জানিয়ে একই আদালতে এই আবেদন করা হয়েছিল।
পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন ওসমান হাদি। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন আবদুল্লাহ আল জাবের, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। হাদি হত্যা মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা ও দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে ডিবির তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছিল।