রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১ নং ওয়ার্ড রমজান মাতব্বর পাড়া এলাকায় বিদ্যুতের তার মেরামত নিয়ে দ্বন্দ্বে মোঃ জিয়াউর রহমান (৪৫) নামে একজনের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী জিয়াউর মৃত ঈমান আলী মিয়ার ছেলে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ ঘাট থানায় উপস্থিত হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্মানি(পিডিবির) গ্রাহক ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জমিদার ব্রিজ সংলগ্ন রমজান মাতব্বর পাড়া মহাসড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎতের লাইনের মাধ্যমে একজন গ্রাহক। গত ৩/৪ দিন আগে ভুক্তভোগীর বাড়ির বিদ্যুতের প্রধান লাইনের তার বসত বাড়ির টিনের চালের উপরের অংশে সমস্যা দেখা দেয়। এসময় পুরো বাড়িতে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পিডিবি অফিসের সোহেল নামে একজন কর্মীকে জানালে গত ২৫ মার্চ বিকেল ৪ টার দিকে সোহেল তার সহযোগীকে লাইন মেরামতের জন্য পাঠান। লাইন মেরামতের এক পর্যায়ে তারে লাগানো টেপ শেষ হলে বিবাদী ওই দিন কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ও বিবাদীর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ভুক্তভোগী কাজ শেষ না করে বিবাদীকে যেতে বারণ করায় বিবাদী ফোনে বিবাদীকে বাড়িতে ডেকে এনে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যাযে বিবাদীরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে বিবাদীগণসহ অজ্ঞান আরো ১০/১২ জন তিনটি অটো ভরে রামদা, চায়নিজ কুড়াল, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে বসত বাড়িতে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীর ঘরের পারটেক্সের দরজা ভেঙে হামলা করে। বিবাদীরা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর কোলে থাকা শিশুকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে গলায় থাকা স্বর্ণের চেন নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার ৫ শত টাকা। বিবাদীরা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর শরীরে থাকা জামা কাপড় টেনে হিচড়ে শিলতাহানীর চেষ্টা করে। এসময় ওয়ারড্রোপে থাকা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর স্বর্ণের হাড়, রুলি, কানের দুল সহ প্রায় ২ ভরি স্বর্ণ যার বাজার মূল্য ৬ লাখ ২ হাজার ৫ শত টাকা এবং তোশকের নিচে রাখা ৩০ হাজার ও ওয়ারড্রোপের দ্বিতীয় ড্রয়ারে রাখা ১ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, বিবাদীরা দলবল নিয়ে আমার বাড়ির সবকিছু লুটপাট করার পাশাপাশি বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে কমপক্ষে ১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। এবং নগদ টাকাসহ বেশ কয়েক লাখ টাকার স্বর্ণ নিয়ে যায়।তিনি আরো বলেন, আসামীরা আমার পরিবার সহ আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে। একপর্যায়ে আমার মাথার পিছনে রক্তাক্ত আঘাত করলে আশেপাশের লোকজন আমাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়।
এবিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।