বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সর্বজনীন পেনশন চাঙ্গা করতে নতুন প্রকল্প নিচ্ছে সরকার ফিলিপাইনের সিনেটে আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত সিনেটরকে ধরতে অভিযান, গুলির শব্দ এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত, ১২ শর বেশি আহত ট্রাম্পকে বেইজিং সফরে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, দুই দেশের কূটনীতিতে নতুন বার্তা ভাঙ্গা থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই তরুণকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের ঢাকায় ঝুম বৃষ্টিতে কমেছে গরম, চার বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস সেবা প্রকাশনীর কার্যক্রম স্থগিত হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৩২

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে ঢাকা বিভাগীয় তথ্য অফিসের প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

সোহাগ হাওলাদার:
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১২১ টাইম ভিউ
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে ঢাকা বিভাগীয় তথ্য অফিসের প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ক এক প্রেস কনফারেন্স রাজধানীর মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মো. শাহ আলম, সহকারী তথ্য অফিসার শারমিন আক্তার, ঘোষক ইমন হোসেন, মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সম্মানিত সভাপতি ও দৈনিক “আমার প্রাণের বাংলাদেশ” পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুল্লা আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইস্রাফিলসহ ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

প্রেসব্রিফিংয়ে ঢাকা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের ৬৮টি তথ্য অফিস একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, জেলা তথ্য অফিসসমূহ সারা বছর সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নারী সমাবেশ, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা, কৃষক সমাবেশ, ফ্যামিলি সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, টি-স্টল ব্রিফিং, সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সড়ক প্রচার, পোস্টার-লিফলেট বিতরণ, ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন, “এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি” কর্মসূচি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসভিত্তিক আলোচনা সভা, ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা, শিশুমেলা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জনসচেতনতামূলক প্রচারণা।

প্রেস কনফারেন্সে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি। জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান গত ১০ মার্চ রাজধানীর বনানী টিএন্ডটি খেলার মাঠে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় পরিবারের গৃহিণীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া “কৃষক কার্ড” কর্মসূচির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ ফারুক স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক এ সুবিধা পেয়েছেন। আগামী চার বছরে এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষক কার্ডধারীরা প্রতি মাসে নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার পাশাপাশি কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, সহজশর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে সেচসুবিধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুনর্বাসন সহায়তা, কৃষিযন্ত্রপাতি ক্রয়ে ভর্তুকি, সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি সুবিধা, ফসল বিপণনে সহায়তা, কৃষিবীমা এবং কৃষি বিষয়ক তথ্য ও পরামর্শসেবা পাবেন।

প্রেসব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৮ জন কৃষকের ঋণ মওকুফ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়। আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী হেলপার দ্বারা পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই বিশেষ সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাবিখা কর্মসূচির আওতায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

শেষে ঢাকা বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, সরকার মনে করে জনবান্ধব এসব কর্মসূচি সফল করতে সরকার, জনগণ ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাংবাদিকদের আরও বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর