শীতের ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে গভীর রাতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ থেকে ১৫ জন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার পর চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার হামিদচর এলাকার মেঘনা নদীতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ভোলার লামোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই এলাকার মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালী গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)।
যাত্রীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় চরফ্যাশন উপজেলার ঘোষেরহাট লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এম.ভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চ। রাত ২টার পর হাইমচর এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি ধীরগতিতে চলছিল। একই সময় ঢাকা থেকে বিএনপির সম্মেলন শেষে যাত্রী নিয়ে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এম.ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চ।
জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের যাত্রীদের অভিযোগ, ঘন কুয়াশার মধ্যেও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি দ্রুতগতিতে এসে পাশ থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
যাত্রীদের আরও অভিযোগ, সংঘর্ষের পর অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি আহতদের সহায়তায় এগিয়ে না এসে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ভোলা থেকে ঢাকাগামী অপর একটি লঞ্চ এম.ভি কর্ণফুলী-৯ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যায়।
এদিকে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে পৌঁছালে পুলিশ লঞ্চটি জব্দ করে এবং লঞ্চটির চারজন স্টাফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনায় ভোলার চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।