বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী মোবাইলে যেভাবে দেখবেন এইচএসসির ফলাফল ইমরান খানের ‘ভারত ছাড়ার নির্দেশ’ স্থগিত করলেন আদালত চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা বিপি সিং চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাউজানে অস্ত্রের মুখে নারীর ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই! যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত

রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তিতে অসংগতি, ঠিক করার তাগাদা ঢাকার

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩২ টাইম ভিউ
রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তিতে অসংগতি, ঠিক করার তাগাদা ঢাকার
ছবি-সংগৃহীত

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা এবং তাদের জাতীয়তা নিয়ে মিয়ানমারের বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াউ সোয়ে মোয়ে’র সঙ্গে বৈঠকে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক উপাত্তই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি ঠিক করার তাগাদা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যই তাদের সঠিক সংখ্যা প্রতিফলিত করে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ শরণার্থীর একটি তালিকা মিয়ানমার গত জুলাইয়ের শেষ নাগাদ যাচাই-বাছাই করেছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ ব্যক্তির মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন বাসিন্দা ছিলেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ ব্যক্তির পরিচয় সফলভাবে যাচাই-বাছাই করা যায়নি। অন্যদিকে ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল বলে সরকার দাবি করেছে। দেশটি রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবারের (১৮ আগস্ট) বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান দুই দেশের সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান। তাদের মধ্যে শরণার্থীশিবিরে জন্মগ্রহণকারী শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া নতুন আগমনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে তাঁদের নিবন্ধনের কাজ করছে এবং ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের প্রাথমিক তালিকার পরের রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় করা হবে।

তৌফিক-উর-রহমান যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি এটিও তুলে ধরেন, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নন। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্প্রতি পর্যন্ত স্বীকৃত তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো তার দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং যাচাই করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান আবারও বলেন, ‘‘এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে রোহিঙ্গাদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মধ্যে।’’পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “মিয়ানমারের দিক থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংখ্যার কিছু বিভ্রান্তি আছে। যেটার সাথে বাংলাদেশের সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত না। তো, উনাদের সাথে কথা হয়েছে…মিয়ানমার অ্যাম্বাসেডর আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকারের সাথে উনি কথা বলবেন।”

মিয়ানমার সরকারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ধীরগতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেন আরও একটু দ্রুতগতিতে তারা ভেরিফিকেশন প্রসেসটা করে।” বাংলাদেশ যে মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছিল, সে কথাও রাষ্ট্রদূতকে মনে করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা চাই যে তারা সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে একটা সেইফ অবস্থায় ফিরে যাক তাদের দেশে। তাদের একটা নিজেদের আইডেন্টিটি আছে, সেই আইডেন্টিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে নৃশংস সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা (বাংলাদেশের হিসাবে আট লাখের বেশি) সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের কক্সবাজারে আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এসব সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাও মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও জাতিগত মিলিশিয়াদের নৃশংস সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে আগেই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর