শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভারতের প্রধান ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় সাইবার হামলা নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা, ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট: লেনদেনে সমস্যা নেই সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করার নির্দেশ নেতানিয়াহুর আবার‍ও কক্সবাজারে হোটেলে আগুন ভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা আব্বাস

আমিরাতে ফার্নিচারের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩
  • ২১০ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ফার্নিচারের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আমিরাতের শারজাহ শহরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউপির পলতি তারাবাড়ীয়া গ্রামের আবু তাহের পাটোয়ারী বাড়ির মো. ইউসুফ (৪৩), একই এলাকার বড়বাড়ির তারেক হোসেন বাদল (৪০) ও পলতি হারিছ মিয়ার বাড়ির মো. রাসেল (৩০)।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে তিনজনের পরিবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানতে পারে। এরপর বেলা ১১টার দিকে নিহত ইউসুফের ছোট ভাই ইমরান হোসেন আবুধাবি থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর পান। এরপর তিন পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও শত শত নারী-পুরুষ ছুটে আসেন তাদের বাড়িতে।

নিহত ইউসুফের ছোট ভাই গোলাম রসুল বলেন, আমার বড় ভাই ২৫ বছর ধরে আমিরাতে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি শারজাহ শহরে একটি ফার্নিচার তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। বাড়িতে তার দুই ছেলে আছে। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কারখানায় আগুন লাগে। ওই ঘটনায় আমার ভাইসহ আমাদের ইউনিয়নের আরও দুজন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

গোলাম রসুল বলেন, কীভাবে আগুন লেগেছে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর ওই দেশে থাকা আত্মীয়স্বজন মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে কল করে বিষয়টি গ্রামের বাড়িতে জানান। আমার ভাইসহ নিহত তিনজনের মরদেহ এখনো দেশটির পুলিশের হেফাজতে আছে। সেখানে থাকা স্বজনেরা দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আমরা এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছি।

নিহত বাদলের পিতা মীর আহাম্মদ বলেন, ৮ মাস আগে পরিবারের অনটন গোছাতে বাংলাদেশ থেকে ইউসফের ফ্যাক্টরিতে কাজ নেয় বাদল। বাদলের দুই ভাই প্রতিবন্ধী। বাদলের সাজ্জাদ, জাহিদ ও আবীর নামে তিন ছেলে লেখা পড়া করছে। বাদলের মৃত্যুতে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।

নিহত রাসেলের চাচা সাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে ধার-দেনা ও কিস্তি নিয়ে রাসেল ইউসুফের সোফা ফ্যাক্টরিতে যায়। তার নিজের কোনো ভূমি বা বসতঘরও নেই। তার মা, স্ত্রী ও এক সন্তান চাচা আবদুস ছাত্তারের ঘরে থাকেন। কিস্তির টাকাও পরিশোধ করতে পারেননি রাসেল। রাসেলের কন্যা সন্তানও প্রতিবন্ধী। রাসেলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।

ডমুরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমিরাতে ফার্নিচার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আমার ইউনিয়নের মতইন ও পলতি তারাবাড়িয়া গ্রামের তিন প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। শত শত নারী পুরুষ ও স্বজন বাকরুদ্ধ। মরদেহ আনতে তাদের পরিবার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।

সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিন প্রবাসী নিহত হওয়ার খবর আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। আমিরাতে অবস্থানরত নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তবে নিহতের বিষয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা থানায় কিছু জানাননি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর