উরুগুয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লুইস সুয়ারেজ। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শুক্রবার (৬ সেপ্টম্বর) প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচের পর তিনি জাতীয় দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন।
উরুগুয়ে জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ১৪২ ম্যাচ খেলে ৬৯ গোল করে দেশটির জার্সিতে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড নিয়েই অবসরে যাচ্ছেন ইন্টার মায়ামিতে খেলা এই কিংবদন্তি।
অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে সুয়ারেজ বলেন, একজনের জন্য এর চেয়ে গৌরবের আর কিছু হতে পারে না যখন তিনি জানেন কোনটা অবসরের সেরা সময় এবং আমি সৌভাগ্যবশত আমি আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসরে যাচ্ছি কারণ আমি এখন ভিন্ন কিছু ভাবতে চাই।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমার বয়স ৩৭ এবং আমি জানি যে, আগামী বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া খুবই কঠিন। এটা আমাকে অনেক তৃপ্তি দিচ্ছে যে, আমি অবসরের ঘোষণা দিতে পারছি এবং ইনজুরির কারণে আমাকে অবসরের ঘোষণা দিতে হচ্ছে না বা ডাক না পাওয়ার কারণে।’
২০০৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সুয়ারেজ উরুগুয়ের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ খেলেন। সেই ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে তার দল ৩-১ গোলে জয় পায়। খুব দ্রুতই তিনি নিজেকে জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেন। ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে উরুগুয়ের ২০ ম্যাচের ১৯টিতেই খেলেন এবং লা সেলেস্তেদের হয়ে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেন।
সেই বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সুয়ারেজ। উরুগুয়ের খেলা ৬ ম্যাচের ৫টিতেই তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন। ঘানার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের অন্তিম মুহূর্তে তিনি ঘানার একটি শট গোললাইনে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দলকে বাঁচান। ফলে সুয়ারেজ লাল কার্ড দেখেন। ঘানা পেনাল্টি পেলেও আসামোয়াহ জিয়ান গোল করতে ব্যর্থ হন। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই হ্যান্ডবলকে সুয়ারেজ টুর্নামেন্টের সেরা সেভ বলে আখ্যা দেন। সেই বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৩ গোল করেন সুয়ারেজ।