মালয়েশিয়ায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়ালালামপুরের অদূরে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে নেগরি সিমবিলান প্রদেশের তামান লিঙ্গিরের একটি বাড়ি থেকে ৩ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নেগরি সিমবিলান পুলিশের বরাতে নিউ স্ট্রেইট টাইমস অনলাইন এই সংবাদ দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে। এই ঘটনায় আরো এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে । নিহত ৩ বাংলাদেশি ও আহত ব্যক্তির নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
গণমাধ্যম গুলো আজ সংবাদ প্রকাশ হয়ে, গতকাল বিকেলে নেগরি সিমবিলানের তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে সহকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় তিনজন বাংলাদেশি পুরুষ নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সকলে এক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলো।
নেগরি সেমবিলান পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ বলেছেন, এ ঘটনায় পুলিশ আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি পুরুষকেও গ্রেপ্তার করেছে। যিনি এই ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই বাড়িতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে মারামারির বিষয়ে পুলিশ স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে খবর পায়।
তিনি আজ এক বিবৃতিতে বলেন, “তথ্য পাওয়ার পর লিঙ্গি থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪০-এর কোঠায় থাকা একজন বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করে।”
আলজাফনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ লিঙ্গির সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট থেকে আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, “শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তিনজন বাংলাদেশি পুরুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং আরেকজন আহত হয়ে রেম্বাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনায় জড়িত সকলেই সহকর্মী ছিলেন এবং এক জায়গায় কাজ করতেন, একই বাসস্থানে বসবাস করতেন।
“ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি একাধিক স্থানে ঘটেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।”
“প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির কোনো পূর্ববর্তী অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। রিমান্ডের আবেদনের জন্য তাকে মঙ্গলবার পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে।”
আলজাফনি বলেন, মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন। মারামারি বা নিহতের বিষয় দেশটিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা আমাদের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি বাপ্পী কুমার দাস’কে জানান, বিষয় টি হাইকমিশনের নজরে এসেছে, হাইকমিশনার মনজুরুল মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী ঘটনাটি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। কেনো বা কি কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, দেশটির প্রশাসনের মাধ্যমে।
এছাড়াও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের মধ্যে এমন ঘটনা সমস্ত প্রবাসীদেরকে ও দেশের সস্মানে হানিকার বলে মনে করেন তারা। প্রবাসের মাটিতে এমন ঘটনা সত্যি খুবই লজ্জাজনক।