আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে জোটের নেতারা বলেছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন তারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও জোটের অন্যতম নেতা মামুনুল হক।
মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে নানা ধরনের শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন পুরোপুরি নিরপেক্ষ হবে, এমন আস্থা তারা এখনো পাচ্ছেন না।নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এই নেতা। তার ভাষ্য, এসব ঘটনায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট উদ্বিগ্ন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে তাদের জোট। সেই প্রত্যাশার ব্যত্যয় ঘটলে তারা নীরব থাকবেন না। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মামুনুল হক আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভূমিকা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই তাদের বড় ধরনের কর্মসূচির দিকে যেতে হতে পারে। এ বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নেতা। তার মতে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জোট কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে।
মঙ্গলবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রস্তাবিত লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মামুনুল হক।
বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জোটের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জোটের উদ্বেগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতারা।