মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধায় প্রবেশপত্র না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, সোয়া এক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার জুলাই সনদ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে: প্রধানমন্ত্রী সংঘাতে নতুন মোড়, মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালাল ইরান চূড়ান্ত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী: সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫ হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত নতুন করে গড়ে তুলছে ইরান আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সই হবে: ট্রাম্প পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন যারা

কাকরাইলে তাবলিগী কার্যক্রমে সাদপন্থিদের বিরত থাকার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭৯ টাইম ভিউ

দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীদের শুক্রবার থেকে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে রাত্রীযাপনসহ তাবলিগ জামাতের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আর বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারীদের কেবল ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার কাকরাইল মসজিদ ঘিরে বড় ধরনের জমায়েত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আদেশ দেয়।এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাওলানা সাদের অনুসারী রেজা অরিফ বলেন, “আমরা শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আশা করি পরবর্তীতে সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা করার সুযোগ করে দেবে।”

অন্যদিকে মাওলানা জুবায়ের অনুসারী আব্দুর রফিক বলেন, “আমরা বরাবরের মতই এবারও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। তবে টঙ্গীতে হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটার পর থেকে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।”

দুই সপ্তাহের জন্য কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গত ১৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় তাবলিগ জামায়াতের এই মারকাজে (কেন্দ্রে) জড়ো হন সাদপন্থিরা।অন্যদিকে সাদপন্থিদের নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাকরাইল এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন জুবায়েরপন্থিরা।

একইসঙ্গে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ এবং তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদে সাদপন্থিদের কোনো কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। তুরাগ তীরে ইজতেমার মাঠ দখল ঘিরে গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে তাবলিগ জামাতের দুইপক্ষের সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণহানির পর থেকে উত্তেজনা চলছে।

জুবায়েরপন্থিদের দাবি, সাদপন্থিদের সকল কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে; টঙ্গীতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে; কাকরাইল মারকাজ ও টঙ্গীর ইজতেমা মাঠসহ তাবলিগের সকল কার্যক্রম ‘শুরায়ে নিজামের’ অধীনে করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তিন দাবি তুলে ধরেন জুবায়ের অনুসারী উত্তরার জামিয়াতুল মানহাল আল কওমিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কেফায়েতুল্লাহ আজহারী। দাবি বাস্তবায়নে তিনি কাকরাইল এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এদিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাবলিগের দুই পক্ষকে জমায়েত না হতে আলাদা আলাদা নির্দেশনা দিল।

তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে বিভাজন শুরু হয় ২০১৭ সালে। নামাজ ও কোরআন পড়িয়ে টাকা নেওয়ার সমালোচনা করে সেসময় মাওলানা সাদের একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে তাবলিগ অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়ে। এবার সেই বিভেদ আরও বড় হয়েছে। সেই তাদের বিরোধের কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে দুই পর্বে।

গত ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে ইজতেমা মাঠ দখল ঘিরে সংঘর্ষে জড়ায় দুইপক্ষ। এতে তিনজনের প্রাণহানি হলে একে অপরের ওপর দোষ চাপান সাদ ও জুবায়েরপন্থিরা।

ওই ঘটনার পর থেকে সাদপন্থিদের নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন জুবায়েরপন্থিরা, যারা নিজেদের ‘শুরায়ে নিজাম’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর