ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তারা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব বন্দর অনিরাপদ করে তোলার হুমকি দিয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারো জন্য নয়। এ অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
দেশটির সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইডিটি সময় সকাল ১০টা (ইরান সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা) থেকে এ অবরোধ শুরু হবে। ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের ওপর সমানভাবে এ অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে আগের ঘোষণা থেকে কিছুটা সরে এসে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, অবরোধের ঘোষণার পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মাত্র ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত।