রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় রাতের আধারে বালু লুটে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনটি বিকল এবং ব্যাটারী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার দিনগত রাত ১১ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস অভিযান পরিচালনা করে মাটি কাটার ওই ভেকু মেশিনটি ধ্বংস করেন।
এ সময় দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশের ওসি ত্রিনাথ সাহা সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্হিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে ওই এলাকা হতে অবৈধভাবে বালু কেটে তা বেশ কয়েকটি ট্রাকে বিভিন্ন স্হানে পাচারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন ওঠে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
অভিযানের বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, প্রশাসন কাউকে নদী,খাল বা চরের মাটি ও বালু কাটার অনুমতি দেয়নি। যেটা কাটা হচ্ছিল তা রাতের আধারে এবং অবৈধভাবে। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির মালিক দাবিদার মুসা মন্ডল, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম ওরফে শহীদ পাল, বালু ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন,খোকন সহ বেশ কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ বালু কাটার সাথে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শক্তিশালী চক্রটির তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও তারা কোনো প্রতিকার পান না। উল্টো তাদেরকে হুমকি ধামকি দেয়া হয়।
আলাপকালে জমির মালিক দাবিদার মুসা মন্ডল যুগান্তরকে বলেন, তিনি পদ্মা নদী কিংবা চরের বালু কাটেননি। মানিকগঞ্জের বাল্লা হতে গত ডিসেম্বর মাসে তিনি বালু কিনে এনে নদীর পাশে তার নিজের সমতল জায়গায় রেখেছিলেন। এতদিন নানা সমস্যার কারনে সে বালু তুলতে পারেননি। এখন তুলে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন। বালুর ট্রাক আসা-যাওয়ার জন্য শহীদ পালের জমির উপর দিয়ে রাস্তা করতে হয়েছে। সে জন্য তাকে টাকা দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শহীদ পালের ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।