বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তায় লেবাননের লাখো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৬ টাইম ভিউ
ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তায় লেবাননের লাখো মানুষ

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মুখে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা। একের পর এক গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে পুরো একটি শহরকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষ আদৌ কখনো নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন নারী ও শিশুসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে একের পর এক গ্রাম দখল করে নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাসিন্দাদের বাড়ি ফিরতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ডিনামাইট ও বুলডোজার দিয়ে গোটা গ্রাম গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ঘরবাড়ি হারানো এমনই এক বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যরা জানান, চোখের সামনে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু ধ্বংস হতে দেখা তাদের জন্য এক চরম মানসিক বিপর্যয়।

পরিস্থিতি এতটাই অনিশ্চিত যে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে বা তারা কবে ফিরতে পারবেন, তার কোনো উত্তর কারো জানা নেই। অন্যদিকে সংকট সমাধানে লেবানন সরকার সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী হলেও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার অন্যতম পূর্বশর্তই ছিল যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তা থমকে আছে।

চলমান এই সংঘাতের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ চায়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। গোষ্ঠীটি ইসরায়েলকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত থাকলেও, এমন কোনো একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে নারাজ যেখানে ইসরায়েল যখন-তখন লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা চালানোর অধিকার রাখবে।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র ‘নাবাতিয়েহ’ শহরের সমস্ত বাসিন্দাদের অবিলম্বে শহর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাপক বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে জারি করা এই আদেশের ফলে শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য।

ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ এই এলাকাটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বিস্ফোরক ড্রোন উৎক্ষেপণ করছে, যা উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাজধানী বৈরুত এবং এর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর আকাশে দিন-রাত নিচু দিয়ে উড়তে থাকা ইসরায়েলি ড্রোনের একটানা গুঞ্জন লেবানন রাষ্ট্র ও হিজবুল্লাহ উভয়ের ওপরই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে আক্রমণ আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়ার পর, রাজধানীতে পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ব্যাপকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, একদিকে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আর অন্যদিকে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি— এই দুইয়ের মাঝে পড়ে লেবাননের সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকার আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা। সূত্র : আল জাজিরা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর