রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কনসার্টে রাজধানীতে মঞ্চ মাতাবেন জেমসসহ ৭ ব্যান্ড

বিনোদন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ টাইম ভিউ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কনসার্টে রাজধানীতে মঞ্চ মাতাবেন জেমসসহ ৭ ব্যান্ড
ছবি-সংগৃহীত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিকেল হওয়ার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ শ্রোতায় ভরে ওঠে। আশপাশের গাছের ডালেও মানুষ দেখা যায়। কনসার্ট বিকেল শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টায় ধানমন্ডি থেকে আসেন সানজিদা সুলতানা।

তিনি বলেন, “সামনের সারিতে থাকার জন্য দুপুর ১টায় ব্যারিকেডের কাছে চলে এসেছিলাম। চারপাশে তীব্র ভিড়। জানি ভিড় হবে, তবুও অনেক দিন পরে কনসার্ট উপভোগ করছি। আমরা তিনজন মিলে এসেছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে থাকতে পারব।”

মিরপুর থেকে এসেছেন চাকরিজীবী তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, “আজ ছুটির দিন বলে বন্ধুদের সঙ্গে গান শুনতে এসেছিলাম। উন্মুক্ত মাঠে এত বিশাল আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি আগেও এমন কনসার্টে গিয়েছি। ভিড়, চাপ হবে জেনেও কনসার্টে আসা।”

আয়োজনের উদ্দেশ্য জানিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, “মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। আমরা চাই দর্শক যেন কোণায় কোণায় ভরে যায়। আমরা প্রতিটি জেলার শিল্পকলা একাডেমিতেও নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি, যেন মানুষ আনন্দ করতে পারে এবং বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে পারে।”

বিকেল সাড়ে ৩টায় কনসার্ট শুরু হয়। হেভি মেটাল ব্যান্ড মেকানিক্স ৪০ মিনিটের জমজমাট পরিবেশনায় মোট পাঁচটি গান শোনায়। দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজীয়’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে তারা। এরপর প্রয়াত ও সাবেক সদস্যদের স্মরণে শোনায় ‘নিয়তি’। পাশাপাশি ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ এবং তাদের প্রথম অ্যালবামের জনপ্রিয় গান ‘বিস্ময়’ পরিবেশন করে ব্যান্ডের শিল্পীরা।

পরিবেশনা শেষে মেকানিক্সের দলনেতা ও ভোকালিস্ট আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব গণমাধ্যমকে বলেন, “মেকানিক্স সবসময় চায় গানের মাধ্যমে মানুষ যেন অনুপ্রাণিত হয়। আমরা মানুষের কথা, প্রতিবাদের কথা বলতে চাই। সমাজের নানা অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চাই।

“জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমাদের চলার পথে যে সংগ্রামের সেই দিনগুলো বারবার স্মরণ করে যেন আমরা ইতিবাচক কিছু অর্জনে অনুপ্রাণিত হই।”

মেকানিক্সের পর মঞ্চে ওঠে ‘শিরোনামহীন’। শুরুতেই তারা শোনায় ‘পাখি’ গান। এরপর পরিবেশন করে কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’। পরে শোনায় তাদের দর্শকপ্রিয় গান ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘আবার হাসি’।

শিরোনামহীনের ‘এই অবেলায়’ গানের সুরের মূর্ছনায় পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে সমবেত হাজারো দর্শক কণ্ঠ মিলিয়ে এক অনন্য উন্মাদনা সৃষ্টি করেন। কনসার্ট শেষে শিরোনামহীনের দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান জিয়া গ্লিটজকে বলেন, “সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কনসার্ট, সম্পূর্ণ সহযোগিতায় ছিল বামবা। বামবা যখন কোনো কনসার্টে যুক্ত হয়, বিশেষ করে এটা যেহেতু আমাদের নিজেদের ঘরের কনসার্ট, তখন বিষয়টা আলাদা থাকে। সেখানে আনন্দ আলাদা, পরিবেশ আলাদা এবং ডিসিপ্লিনও আলাদা। সেটা আজকে খুব ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই আয়োজনের সফলতা কামনা করছি।”

আয়োজনের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নিয়ে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)-এর সহসভাপতি ও ওয়ারফেজ ব্যান্ডের শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, “খোলা মাঠে এত বড় জনসমুদ্র নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও বামবার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কনসার্টটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

মান বজায় রাখা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় ব্যান্ড নির্বাচন থেকে শুরু করে সাউন্ড, লাইট, স্টেজ লজিস্টিকস এবং নিরাপত্তার একটি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেন দর্শক-শ্রোতারা কনসার্টে এসে একটি উৎসবের মেজাজ পান এবং সানন্দে গান উপভোগ করতে পারেন।”

শিরোনামহীনের পর মঞ্চে আসে ‘আর্টসেল’ ও ‘ফিডব্যাক’। এরপর গান পরিবেশন করে ‘ওয়ারফেজ’, ‘মাইলস’ ও ‘নগরবাউল জেমস’। ওয়ারফেজের পরিবেশনা নিয়ে টিপু বলেন, “আমাদের অন-স্টেজ টাইম রাত ৮টার দিকে। যেহেতু আজ ৭ই নভেম্বর—৭টি ব্যান্ড এবং ৭ ঘণ্টার অনুষ্ঠান, তাই আমরাও মঞ্চে ৭টি গান পরিবেশনের চেষ্টা করব। দর্শকরা আমাদের যেসব জনপ্রিয় গান বেশি শুনতে চান, সেগুলো নিয়েই আজকের পরিবেশনাটি সাজানো হবে।”

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর