আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ শহীদ পরিবারের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেসব পলাতক আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অর্থদণ্ডের আদেশ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে।আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তাই আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইনি বিধান পর্যালোচনা করে কীভাবে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।পলাতক আসামিদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো আসামি পলাতক থাকলেও তার বিচার চলতে পারে। তবে আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা, আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কার্যকর করা সম্ভব নয়। আদালত পলাতক আসামিকে দণ্ড ও অর্থদণ্ড দিতে পারলেও তা কার্যকর করতে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো পলাতক আসামির অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা প্রসিকিউশনকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।
এক বছরে শেষ হবে জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলা
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে বাছাই করা ১০৯টি মামলার তদন্ত ও বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রসিকিউশন।
আমিনুল ইসলাম জানান, একই এলাকার একাধিক ঘটনাকে আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত না করে সমন্বিতভাবে তদন্তের আওতায় আনা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও নরসিংদীর একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি একটি তদন্তেই সংশ্লিষ্ট সব তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের পরিবার দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশা পূরণে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দ্রুত তদন্ত ও বিচার শেষ করার চেষ্টা চলছে।
প্রধান কৌঁসুলি আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্তও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, কিছু গুম স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, আবার কিছু ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় বিচারযোগ্য হতে পারে।
তিনি জানান, গত এক থেকে দেড় বছরে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই এসব মামলার বিচার শেষ করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করলে বিচার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম আরও জানান, চলতি মাসে আরও তিনটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি চলছে, মাহবুবউল আলম হানিফের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে, যাত্রাবাড়ীর তাইম ভূঁইয়া হত্যা মামলায় শিগগিরই যুক্তিতর্ক শুরু হবে এবং জিয়াউল আহসানের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।