জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের দুইটি পুকুরের লিজের মেয়াদ শেষ হলেও চলছে মাছ চাষ। এতে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি লিজ চুক্তি ছাড়াই স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী পুকুরগুলো দখল করে মাছ চাষ চালাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি তদারকিতে কলেজের অধ্যক্ষের চরম উদাসীনতা ও অসাবধানতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে মোট তিনটি পুকুর রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দুইটি পুকুরে মাছ চাষের লিজ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ আমজাদ হোসেন ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি লিজ পান, যার মেয়াদ চলতি বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কলেজ প্রশাসন নতুন করে কোনো দরপত্র আহ্বান বা লিজ প্রদান করেনি। স্থানীয় বিএনপির নেতা সজিব, শান্ত, রুকন, মধু, রুমনসহ আরো কয়েকজন ও আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অনিয়মতান্ত্রিকভাবে পুকুরগুলোতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মাছের পোনা ছেড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। কোনো ধরনের অনুমতি ও চুক্তি ছাড়া সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ করলেও কলেজ প্রশাসন এতে বাধা দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সরকারি পুকুরে অবৈধভাবে মাছ চাষ চললেও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: শওকত আলম মীর। সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পুকুরে কারা মাছ চাষ করছে বা লিজ ছাড়া কীভাবে মাছ চাষ হচ্ছে সে সম্পর্কে তার কিছুই জানা নেই। অধ্যক্ষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য এবং কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় তার অদক্ষতা ও তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।
শাকিল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকারি সম্পত্তি কীভাবে কিছু দলীয় নেতাকর্মী অবৈধভাবে দখল করে রাখবে? আর কলেজের মূল অভিভাবক হয়েও অধ্যক্ষ কীভাবে বলেন যে তিনি কিছুই জানেন না! এতে করে কলেজের সম্পত্তির সুরক্ষায় তার অদক্ষতা ও চরম উদাসীনতাই প্রকাশ পায়। এই অবৈধ মাছ চাষ বন্ধ করে নিয়ম মেনে লিজ দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায়ের দাবি জানাচ্ছি।
বনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির কর্মী রাসেল বলেন, এখানে এগুলো যারা করছে তারা সবাই বিএনপির লোকজন। এরা অধ্যক্ষের সাথে মুখে কথা বলেই মাছ ছেড়েছে। এরা সবাই দলের পুলাপান, বিগত দিনে এরা অনেক কষ্ট করেছে। এদের মাছ চাষ করার জন্য দল থেকে একটা অনুমতি দিয়েছে। এখানে কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীরাও আছে। তবে এটা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুমিল সে এটা যানে না। কলেজ ছাত্রদলের পুলাপান সুমিলকে এ বিষয়ে কিছু বলে নাই। আমি এটা জানি কারণ আমি সুমিলের সাথেই সব সময় থাকি।
আগে পুকুরগুলো যে লিজ পেয়েছে সেই কালাম বলেন, আমরা কয়েক বছর ওখানে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছি। গত বছরই আমাদের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন ওখানে কে মাছ চাষ করছে সেটা সঠিক জানি না।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক সরোয়ার হাসান বলেন, মাছ চাষের বেপারে আমার কজেলের কেউ যুক্ত আছে এমনটা আমি জানি না। তবে কেউ যদি যুক্ত থাকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে।
জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল বলেন, শুধু কলেজ নয়, আমার ছাত্রদলের যেকোন শাখার নেতাকর্মীরা যদি সিট ব্যবসা, চাদাবাজি বা যেকোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকে। তবে আমি কারো কথাই শুনবো না। সরাসরি দল থেকে ব্যবস্থা নিবো এবং আইনি ব্যবস্থা নিবো।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: শওকত আলম মীর বলেন, আমাদের কলেজের যে পুকুর আছে সেগুলো এক অর্থবছরের জন্য লিজ দেওয়া ছিলো। জুন মাসে লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আমি এই মাসেই চাকরির মেয়াদ শেষের কারণে এখান থেকে চলে যাবো। তাই আমি লিজ দেওয়ার মতো ঝুকিপূর্ণ কাজে জড়াইনি। এখন এখানে কে বা কারা মাছ চাষ করছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রতি বছর এটা কত টাকা দিয়ে লিজ দেওয়া হয় বা পুকুরে কতটা জমি আছে আমি সেটাও জানিনা। নথিপত্র থেকে আমি বলতে পারবো না। পুকুরের নথিপত্র কোথাই আমি সেটাও জানি না।