অপেক্ষা ভাঙতে সময় লেগেছিল ৩৮ মিনিট। তবে একবার গোলের সূচনা হতেই আর থামেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিল সুরভী আকন্দ প্রীতির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই প্রাধান্য দেখায় বাংলাদেশ। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম দেখায়ও নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মাহবুবুর রহমান লিটুর শিষ্যরা।প্রথম গোল আসে ৩৭তম মিনিটে।
থুইনুই মারমা ডানদিক থেকে ঢুকে একক প্রচেষ্টায় বক্সের ভেতর তিনজনকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সতীর্থের পাস সামঝানা চান্দের নিয়ন্ত্রণে না আসায় সুযোগ পান মামনি চাকমা। তিনি দারুণ থ্রু পাস বাড়ান প্রীতির উদ্দেশে। বক্সে ঢুকেই প্রীতি বাম পায়ের শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠান জালে।
তবে বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান কমায় নেপাল। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগমকে পরাস্ত করেন ভূমিকা বুদাথোকি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে।বিরতির পরও খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। ৭১তম মিনিটে কর্নার থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পান প্রীতি। সহজ ট্যাপে তিনি গোল করে ব্যবধান বাড়ান ৩-১ এ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নামল প্রবল বৃষ্টি। তবে ভিজে মাঠেও ছন্দ হারায়নি মেয়েরা।
৮৬তম মিনিটে পুর্ণিমা মারমার আড়াআড়ি ক্রস পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান প্রীতি। এভাবেই পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক, আর ম্যাচও নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জন্য। শেষ দিকে গোলরক্ষক বদল করলেও (ইয়ারজানের জায়গায় মেঘলা নামেন) স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এই জয়ে গ্রুপে চার ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট দাঁড়াল ৯। এর আগে ভুটানকে ৩-১ গোলে হারানো ও নেপালের বিপক্ষে দুটি জয় পেলেও ভারতের বিপক্ষে ০-২ গোলে হেরেছিল লিটুর দল। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন ভারতের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেই জয় পেতে হবে বাংলাদেশকে।