রাজধানীর মাজার রোডের আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে হোটেল মালিক সোহেল এর নেতৃত্বে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। আর ওই হোটেলে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরাসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামঞ্চাল থেকে আগত যাত্রী ও মোটর শ্রমিকদের আনাগোনাই বেশি। এতে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজসহ এলাকার পরিবেশ। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির চোখে ধুলো দিয়ে হোটেল মালিক
সোহেল অবৈধ এই দেহ ব্যবসা পরিচালনা করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হোটেলে প্রবেশ করতেই হোটেল ম্যানেজার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তার কাছে হোটেলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন তথ্য দিতে রাজি না হয়ে উলটো উক্ত হোটেলের স্টাফদের জড়ো করে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করে। পরে হোটেল ম্যানেজার কৌশলে মালিক সোহেলকে বিষয়টি জানালে সাথে সাথে সেখানে এসে তিনি অনুসন্ধানের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য না দিয়ে হোটেল থেকে চলে যেতে বলেন।
পাল্টা প্রশ্নে দুর্ধর্ষ সোহেল চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ও এপর্যায়ে বিভিন্ন হুমকি -ধামকি দিতে থাকে।
পরে অনুসন্ধানী টিম কৌশলে জানতে পারে, এসব অবৈধ দেহ ব্যবসায় জড়িতরা স্কুল কলেজ ও গ্রামাঞ্চল থেকে বিভিন্ন বয়সের নারীদের নিয়ে আসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে। পরে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে জড়ানো হয়ে দেহ ব্যবসায়। এছাড়াও কিছু পেশাদার পতিতা নিয়মিত যাতায়াত করে নিউ গোল্ডেন আবাসিক হোটেলে। এখানে একজন নারীর সাথে রাত কাটাতে হলে গুনতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। হোটেল স্টাফদের বললেই মেলে মদ, ইয়াবা, গাঁজাসহ নানাধরণের মাদক। এছাড়াও এই হোটেল মালিকের রয়েছে এক ধরনের দালাল চক্রের নেটওয়ার্ক।
আর এই চক্রের মূলহোতা সোহেল নিজেই। তার নেতৃত্বে চক্রটি টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কৌশলে হোটেলে নিয়ে আসেন। তারপর কথা অনুযায়ী রুমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পছন্দ অনুযায়ী নারী। এরপর ওই ব্যক্তির আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে চলে ব্ল্যাকমেইল। ব্যক্তি অনুযায়ী দাবি করেন ৩০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা। অন্যথায় তার ভিডিও পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে চক্রটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবাসিক হোটেলে কর্মরত একজন জানান, আমি এখানে চাকরি করি। হোটেলের মালিক বিভিন্ন বয়সের নারীদের নিয়ে এসে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
এ ব্যাপারে দারুস সালাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)র কাছে বিষয়টি জানালে তিনি জানান, আমরা এই এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।