বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার চায় শিবির চট্টগ্রামের ঘটনায় বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদলের হাত ট্রিগারেই আছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত: ইরান সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ : আইএমএফ বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী চুক্তি না হলে হামলার জন্য পুরোদমে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল

মিরপুরে বৃহত্তর কাঁচাবাজার আড়তের অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ ডিসির অভিযানে বাধা

রাজু আহমেদ :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৪৮ টাইম ভিউ

দৈনিক সময়ের আওয়াজ পত্রিকায় মিরপুর মাজার শরীফকে ঘিরে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর মাজার শরীফ কর্তৃপক্ষ বৃহত্তর মিরপুর কাঁচাবাজার আরতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ২১ আগস্ট (বৃহঃপতিবার) দৈনিক সময়ের আওয়াজ পত্রিকার শেষ পাতায় “ইতিহাস ঐতিহ্য হাজার বছরের সাক্ষী হযরত শাহ আলী বাগদাদী মাজার শরীফ ” শিরোনামে একটি সংবাদ এবং একই পৃষ্ঠায় মাজার শরীফের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করা হয়।

বিষয়টি মাজার কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলের নজরে আসলে পরদিনই অর্থাৎ ২২ আগস্ট (শুক্রবার) জুম্মার নামাজের পরপরই মাজার শরীফের নিজস্ব সম্পত্তিতে নির্মিত অস্থায়ী পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ত উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনায় অংশ নেন মাজার কর্তৃপক্ষ।

এ সময় মাজার কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বার বসানোর চেষ্টা করেন যে, তারা ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্দেশেই অভিযান পরিচালনা করছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন, ‘দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করে মাজারের জমি পুনরুদ্ধার ও বেদখলমুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব এবং স্থায়ী শেডের বাইরে এ স্থানে কোনো রকম বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।’

কিন্তু সেদিকে কোন তওয়াক্কা না করে স্থানীয় চিহ্নিতান্বেষী ও প্রভাবশালী  একটি মহল উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টি করে। এতে করে ওই এলাকায় একটি ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপস্থিত জনমনে এবং এলাকা জুড়ে এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, সংঘর্ষ এড়াতে মাজার শরীফ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের স্থাপণা গুলিকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়ে ফিরে আসেন।

জানা গেছে, এর আগে ‘বৃহত্তর মিরপুর কাঁচাবাজার আড়ৎ’ কেন্দ্রিক জবরদখল ও সুবিধাসমূহকে ঘিরে স্থানীয় একাধিক গ্রুপের মাঝে চরম অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এতে যেকোনো সময় ত্রিমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহানির আশঙ্কায় দিনপাত করেন এলাকাবাসী।

এঘটনায়, ওয়াকফ্ এস্টেট প্রশাসিত হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজার শরীফের মালিকানাধীন জমি ও মূল সড়কে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত অস্থায়ী পাইকারী কাঁচাবাজার ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপণাগুলোকে অপসারণের দাবি তুলে ঢাকা জেলা প্রশাসন বরাবর  লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা ঢাকা উত্তরের ব্যবসায়ী ও নাগরিকগণ একসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্য কেনাবেচায় সর্ববৃহৎ আড়ৎ হিসেবে রাজধানীর কাওরান বাজারকেই জানতো। ফলে দেশের দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ৩০/৩৫ জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত কাঁচামাল ভর্তি ট্রাক, পিকআপ প্রবেশ করতো রাজধানীতে। এতে করে সৃষ্ট সেই চিরচেনা ভোগান্তি দূরীকরণসহ রাজধানীর সৌন্দর্য্য বর্ধন, যানজট নিরসন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও জনদূর্ভোগ নিরসনে রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ৎ নির্মাণ করা হয়েছে মিরপুরে।

আরও একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কয়েক বছর হলো পরিকল্পনা মাফিক ৫৫০টি ছোট বড় স্পেস আকারে পাকা শেড, দোকানপাট, পাইকারী কাঁচাবাজার হিসেবে স্থায়ী আড়ত নির্মিত হয়েছে এখানে। যেটি বর্তমানে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পরিকল্পিত পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ত হিসেবে গণ্য।’

সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি প্রশাসনিক তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা  উচ্ছেদের োনির্দেশ আসে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে মিরপুরে জনদূর্ভোগসহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টিকারী এসব অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও মাজার শরীফ ওয়াকফ্ এস্টেটের অফিসিয়াল মুতাওয়াল্লী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ আদেশ দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় টানা গত কয়েকদিন মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে ঘোষণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এসব অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিতে দেখা গেছে। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় কয়েক লক্ষাধিক সাধারণ নাগরিকদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

বৃহত্তর মিরপুর কাঁচাবাজার আড়ৎ মালিক সমিতির একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে আমরাও মিরপুরের মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাত্রিকালীন পাইকারী কাঁচাবাজার আড়ত বসিয়ে কাঁচামাল বেচাকেনা করতাম। সকাল ৯-১০টা পর্যন্ত সেই বাজারে চলতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাঁচা-সবজিসহ নিত্যপণ্য কেনাবেচা। ফলে নগরবাসীর চলাচলে সাধারণ নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হতো। বিশেষ করে সকালে প্রচণ্ড যানজটে অফিসগামী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরকে চরম জনদূর্ভোগ পোহাতে হতো।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থায়ী দোকানগুলো বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দিলেও সেই বাজার এখনো জমে ওঠেনি। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিত পাকা আড়তের সামনের মূল সড়ক, ফুটপাত ও মাজার শরীফের জমিতে অবৈধভাবে কাঁচাবাজার, দোকানপাট ও আড়ত স্থাপন করে বেচাবিক্রি চালিয়ে আসছিলো। এতে করে জনদূর্ভোগ, নাগরিকসেবা, পরিবেশ, নিরাপত্তা বিঘ্নিতসহ নানাবিধ সমস্যা চরম আকার ধারণ ও সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন মহল যে নির্দেশ দিয়েছেন তা অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কার্যকর হবে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সকল স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর