শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহার পেল অনুশ্রী, স্বপ্ন পূরণ হলো নিরাপত্তাকর্মী রাকিবেরও র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নদীদূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড বাদ না দেওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউটর সবুজবাগে শপিং ব্যাগে মিলল তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার এই সুযোগ কেন দিলো- প্রশ্ন বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট, পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ৩৪৯ জন, তালিকা প্রকাশ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ টাইম ভিউ
র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’
ছবি-সংগৃহীত

এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নাম বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে জনসাধারণের মতামতের জন্য।

খসড়ায় র‍্যাবের বিদ্যমান কাঠামোকে আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত এই ইউনিট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীটির দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, মামলা তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর আইন হিসেবে প্রণয়নের জন্য জাতীয় সংসদে তোলা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন আইন কার্যকর হলে র‍্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। বাহিনীর সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ-সম্পর্কিত আইন সাপেক্ষে কোনো সদস্যকে নির্ধারিত শর্তে এই ইউনিটে প্রেষণে নিযুক্ত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা হবে এসআরবির দায়িত্বের অংশ।

এ ছাড়া আদালত, সরকার কিংবা আইজিপির নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বাহিনীটিকে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

খসড়া আইনে সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো অপরাধের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলা লঙ্ঘন অথবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পালিয়ে গেলে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।পলাতক সদস্যের স্থায়ী অথবা বর্তমান বাসস্থান যে থানার আওতাধীন, সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই অনুরোধকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারি করা পরোয়ানা হিসেবে গণ্য করে পলাতক সদস্যকে ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধিও প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

খসড়া আইন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও তদন্তের মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই বহাল রাখা হয়েছে। নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি এবং সদস্যদের জন্য আরও স্পষ্ট শৃঙ্খলা বিধি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর