স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। তাদের উভয়ের হৃদ্যতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে পরিবার একখণ্ড বেহেশতে পরিণত হয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থাপিত ভালোবাসার সম্পর্ক তুলনাহীন। আমি অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমন গভীর সম্পর্ক দেখি না।’ (ইবনে মাজাহ)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ‘বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রী সাধারণত আলাদা-আলাদা পরিবেশে লালিত-পালিত হয়। পরস্পরের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ থাকে না। কিন্তু বিয়ের পর তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধন ও ভালোবাসা গড়ে ওঠে যে, তারা অতীত জীবনকে ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের হয়ে যায়। হঠাৎ করেই তাদের মধ্যে এমন এক প্রেম-প্রীতি সৃষ্টি হয়ে যায় যে, এখন আর একে অন্যকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারে না।
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েজ নেই। তেমনি কেউ কেউ মনে করে, স্ত্রীর জন্যও তার মৃত স্বামীর চেহারা দেখা জায়েজ নেই। তাদের এ ধারণা ভুল। মৃত স্ত্রীর চেহারা যেমন স্বামী দেখতে পারবে, তেমনি স্ত্রীও তার মৃত স্বামীর চেহারা দেখতে পারবেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮)
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকিউল গারকাদ থেকে যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি আমাকে মাথার যন্ত্রণা অবস্থায় পেলেন। আমি বলছিলাম, হ্যায় আমার মাথা ব্যথা! তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আয়েশা! বরং আমার মাথায় ব্যথা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমার কোনো সমস্যা নেই। তুমি যদি আমার পূর্বে মারা যাও তবে আমি তোমার পাশে থাকব, তোমাকে গোসল দিব, তোমাকে কাফন পরাব এবং তোমার জানাজার নামাজ আদায় করব। (ইবনে মাজাহা: ১৪৬৫)