রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদ্রাসাগুলোতে অতিরিক্ত শারীরিক শাস্তি ও অনুপযুক্ত স্পর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় ৫০ বছরে ফিডব্যাক, ১১ বছর পর নতুন অ্যালবামসহ বছরজুড়ে সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন এইচএসসির ফল আগামী বৃহস্পতিবার বাঁশ ফারুকের খুঁটির জোর কোথায়? ধর্ষণ, সরকারি জমি দখল ও মাদক বানিজ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ!(অনুসন্ধানী পর্ব ১) তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে : সাস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি আসিফ মাহমুদের বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের উন্নয়নে জাকির হোসেনের ৩৩ বছরের অবদান সরকার সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারায় আনতে চায়: অর্থমন্ত্রী সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন: মৌলভীবাজারে ডা. শফিকুর রহমান

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড, মিললো ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
  • ২১৪ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেক্স : তিন মাস ১৩ দিন পর গতকাল শনিবার(১৯আগস্ট) খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের আটটি দানবাক্স। এই থেকে পাওয়া যায় ২৩ বস্তা টাকা। দিনভর গুনে এই থেকে পাওয়া গেছে পাঁচ কোটি ৭৮ লাখ ৯ হাজার ৩২৫ টাকা। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এছাড়াও দানবাক্স থেকে স্বর্ণ এবং বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দুই শতাধিক লোক দিনব্যাপী গণনা শেষে রাত ১০টার দিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে গত ছয় মে দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ সাত হাজার ৬৮৯ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। এবার আরও ১৯ লাখ এক হাজার ৬৩৬ টাকা বেশি পাওয়া গেছে।

পাগলা মসজিদের এই টাকা দিয়ে শতকোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এ হত দরিদ্রদের জটিল রোগের চিকিৎসায় অনুদান দেয়া হয়ে থাকে বলে জানা যায়।

শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাগলা মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। দানবাক্সের টাকাগুলো ২৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নিয়ে গণনার কাজ শুরু হয়। টাকা গণনার কাজে রূপালী ব্যাংকের ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রসহ দুই শতাধিক লোক অংশ নেন। রাত ১০ টার দিকে গণনার কাজ শেষ হয়। পরে টাকাগুলো কঠোর নিরাপত্তায় রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, তিনি সকাল থেকেই নিজে উপস্থিত থেকে টাকা গণনার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। টাকা গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পর্যাপ্ত পুলিশ এবং আনসার সদস্য দায়িত্বে ছিলেন।

জেলা প্রশাসক এবং পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পাগলা মসজিদকে ঘিরে দেশ-বিদেশের মানুষের অনুভূতি কাজ করে। এই টাকা দিয়ে শত কোটি টাকার একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় পাগলা মসজিদের অবস্থান। সুউচ্চ মিনার এবং তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তিনতলা পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। মসজিদকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এই বিশ্বাস থেকেই পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। অনেকে রাতে গোপনে এসে এই মসজিদে দান করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচশ বছর আগে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খানের আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় করতেন। তিনি মারা গেলে পরবর্তীতে তার ভক্তরা সেখানে মসজিদটি নির্মাণ করেন। জিলকদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে থাকে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর