রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে হাসপাতালে আগুন যুক্তরাজ্যে উল্টো পথে আসা গাড়ির ধাক্কা, পুলিশসহ নিহত ৭ কলকাতায় হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু: হোটেল ‘শিখা ইন’এর মালিক মালিক গ্রেপ্তার রবিবার সকাল ৯টার মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে তেজগাঁও থানা আকস্মিক পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, ২০২৭ সালে ভাঙতে পারে উষ্ণতার রেকর্ড ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পাইলট প্রকল্প গ্রহণে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ ‘ডন ৩’ বিতর্কে নতুন মোড়, রণবীরের হয়ে ইম্পায় গেলেন বাবা তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ

সময়ের আওয়াজ ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাসেই নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বিএনপি সরকার। একদিকে আমদানিনির্ভরতা, কাতার এনার্জির সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জুলাই-আগস্টে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোর (মহেশখালী ও সামিট) একের পর এক কারিগরি বিপর্যয়; অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে চড়া দামে স্পট এলএনজি কেনা- সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

এর ফলে সার কারখানায় সরবরাহ বন্ধ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি, পেট্রোল পাম্পে রেশনিং ও দীর্ঘ লাইন, শিল্পে উৎপাদন হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের জীবনে লোডশেডিং ও রান্নার গ্যাসের সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার একদিকে মার্চে জ্বালানি বিক্রির সীমা নির্ধারণ ও রাত ৮টার পর শপিংমল বন্ধের নির্দেশনার পাশাপাশি জুনে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়াতে বাধ্য হয়; অন্যদিকে মার্চ মাসেই ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দেয়।

সংকট সামলানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকার বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ চালু, ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় অনশোর ও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করাই এ সংকট সমাধানের মূল পথ।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় ধাক্কা: নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়। এতে সরকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

মার্চে কাতারের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশকে যে দুটি স্পট এলএনজি কার্গো কিনতে হয়, সেগুলোর দাম ছিল যথাক্রমে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ২৮ ডলার ও ২৩ দশমিক ৮ ডলার। বছরের শুরুতে বাংলাদেশ প্রায় ১০ ডলার দরে স্পট এলএনজি কিনেছিল। পরবর্তীতে সংকট মোকাবিলায় বেশি দাম দিয়েই এলএনজি কিনতে হয়েছিল। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় দুই থেকে প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করতে হয়। সে সময় বাধ্য হয়ে সরকারি সার কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল সরকার।

জ্বালানি তেলে সরবরাহ সংকট: এলএনজির পাশাপাশি জ্বালানি তেল নিয়েও বড় চাপ তৈরি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তায় আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়। সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায়। মার্চে সরকার যানবাহনভেদে জ্বালানি বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয়। মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ দুই লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনারবাহী গাড়ির জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়।

এটি ছিল নতুন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। কারণ পরিবহন খাতের জ্বালানি সরবরাহে সামান্য সমস্যা হলেও তার প্রভাব সরাসরি বাজার, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে আমদানি অব্যাহত রাখে, অন্যদিকে পাম্পে জ্বালানি বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এপ্রিলেও ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা ও পেট্রোল ১১৬ টাকা লিটার দরে বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দাম কম রাখায় মার্চ মাসেই সরকারকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এলএনজি সংকটও দ্রুত কাটেনি। কাতার এনার্জি ২০২৬ সালের বাংলাদেশের নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনে। যুদ্ধ শুরুর আগে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে কাতারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১৯টি কার্গো পেয়েছিল। এরপর কাতার থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে ৩৫টি স্পট মার্কেট কার্গো সংগ্রহ করতে হয়। বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতারনির্ভর হওয়ায় ওই সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতাকে সবার সামনে আরও স্পষ্ট করে দেয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় সেই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে কয়লা ও তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর ওপর নির্ভরতা বাড়ে। কিন্তু এগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বেড়ে যায়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধির আরেকটি বড় প্রতিফলন দেখা যায় বিদ্যুতের দামে। জুনে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়। একই সময়ে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়।

অর্থাৎ সরকার একদিকে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে সেই ব্যয়ের একটি অংশ ভোক্তার ওপর দেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ে এলএনজি টার্মিনালের বিপর্যয়: বড় জ্বালানি সংকটগুলোর একটি আসে জুলাইয়ের শেষ দিকে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক কেবল-সংক্রান্ত সমস্যার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়।

বাংলাদেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় গ্যাসে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সিএনজি স্টেশন এবং বাসাবাড়ির রান্নায়।

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার পর গ্যাসের চাপ কমে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে, স্বাভাবিক সময়ে রান্না করা সম্ভব হয়নি। এতে জনজীবন অস্থির হয়ে ওঠে।

জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট আগস্টে আরও দীর্ঘায়িত হয়। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলেও পুরো সক্ষমতায় ফেরানো সম্ভব হয়নি এখনো।

আগস্টে গ্যাস সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ খাতেও নতুন করে দেখা দেয়। বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর জোর দেয়। বাজার, দোকানপাট ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাত ৮টার পর শপিংমল বন্ধের কয়েকদফা নির্দেশনা দেয় সরকার।

এদিকে গত ২৪ মে সরকার বঙ্গোপসাগরে ২৬টি তেল-গ্যাস ব্লকের জন্য ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ চালু করে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক রয়েছে। নতুন মডেল পিএসসি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিডিং প্রক্রিয়া শেষ করা। একই সঙ্গে অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও উৎপাদনে রয়েছে ২০টি, এসব ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় এক হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। তবে সমুদ্রে দেশীয় গ্যাসের সন্ধান পেলে তা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গত ১৩ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পায়রা, মোংলা এবং হিরণ পয়েন্টে নতুন এই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। এক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি জমির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বড় আকারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ সহজ করা এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিপিডির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৪টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় ৬০ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা পর্যন্ত যাওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছিল এবং সংকটের মধ্যে প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে জুনের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের চাহিদাও বড়। পেট্রোবাংলা শুধু অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম বলেন, আমাদের দেশীয় সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা আমাদের এই দেশকে ডেল্টা এরিয়া বলে থাকি। পৃথিবীর অনেক দেশ যেমন নাইজেরিয়াসহ আরও অনেক দেশ গ্যাসে সমৃদ্ধ। আমরাও তাই মনে করি। এই সমৃদ্ধ সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো, কূপ খননে অগ্রগতি আনতে হবে। মূলত এই কাজের ওপর জোর দিতে হবে। এই কাজটি জ্বালানি সংকটের সঙ্গে রিলেটেড। সরকার যদি কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে পারে তাহলে সংকট কেটে যাবে। এমনকি আমাদের গ্যাস রপ্তানির সম্ভাবনাও রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর: দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত উন্নয়ন এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সময়মত এলএনজি কার্গো আমদানি নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ ছাড়া, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশকে বড় আকারের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নততর করা এবং এর পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার অবস্থার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নয়নে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি ও ২০৩৫ সাল মেয়াদে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।

সভায় বর্তমানে গ্যাস, জ্বালানি তেল, কয়লা, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির চাহিদা, সরবরাহ এবং বিদ্যুতের চাহিদা, কোন জ্বালানি থেকে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী শীতকালের মধ্যে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আগামী গ্রীষ্মকালের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

২০২৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত রূপরেখা চেয়েছেন তারেক রহমান। বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি প্রাপ্তির বিষয়ে একটি স্পষ্ট ও আগাম ধারণা দিতেই সরকার এই সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে চায়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর