রাজধানীর মিরপুর যেন আজ এক টুকরো রঙিন ক্যানভাস। কীর্তনের সুর, শঙ্খধ্বনি, পতপত করে উড়তে থাকা রঙিন পতাকা আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত চারপাশ। ১৬ আগষ্ট (শনিবার) সকাল থেকেই মহা জন্মাষ্টমী ২০২৫ উপলক্ষে মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা প্রদক্ষিণ করল মিরপুর ১৪ নম্বর, কালশী, শাহ আলী ও পাইকপাড়া এলাকা।
এসময় শত শত নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও শিশুর পদচারণায় ভরে উঠেছিল মিরপুরের প্রধান সড়কগুলো। কেউ ভগবান কৃষ্ণের স্তবগান গাইছেন, কেউ আবার ধর্মীয় প্রতীক হাতে নিয়ে ছন্দে ছন্দে হেঁটে যাচ্ছেন। এসময় চারপাশে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমীনে শোভাযাত্রা ঘুরে দেখতে গিয়ে চোখে পড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি, বাংলাদেশ,সেনাবাহিনী, র্যাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন একসাথে।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাকসেদুর রহমান বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানে শুধু এক সম্প্রদায়ের আয়োজন নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্ভয়ে ভক্তিভরে জন্মাষ্টমী পালন করতে পারেন, সে জন্য আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো আয়োজন। কোনো ধরণের নাশকতা কিংবা আপাতপরতা রুখতে ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা এসএ সিদ্দিক সাজু বলেন, মনে হচ্ছে আমরা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান করছি না, বরং একধরনের সামাজিক উৎসবের অংশ হচ্ছি। সবাই মিলে এভাবে আনন্দ ভাগাভাগি করা সত্যিই বিশেষ। এসময় তিনি সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আপনাদের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে উৎসবমুখর পরিবেশে চালিয়ে যান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোন রকম পরিস্থিতিতে আমরা সার্বিকভাবে পাহাড়ায় আছি।
এসময় পুজা উৎসব আয়োজক কমিটির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, আজ এখানে আমরা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, মুসলিম প্রতিবেশীরাও আমাদের সঙ্গে হাঁটছেন। উৎসব আয়োজনের তারা আমাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। এটাই আমাদের আসল শক্তি।”
তিনি বলেন, জন্মাষ্টমী ভগবান কৃষ্ণের জন্মদিনের স্মরণ। কৃষ্ণের শিক্ষা—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা—আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ভক্তরা মনে করেন, জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মানবতার এক চিরন্তন পাঠ।
মিরপুরে ঘুরে ফিরে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে কীর্তন, গীতাপাঠ, প্রসাদ বিতরণ আর আলোচনায় ভরে উঠেছে পরিবেশ। শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং নাটিকা, যেখানে কৃষ্ণ লীলা জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। শোভাযাত্রা ঘিরে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানো ছিল অসংখ্য সাধারণ মানুষ। কেউ ভিডিও তুলছেন, কেউ আবার ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।