বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রামে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাদের বিচার চায় শিবির চট্টগ্রামের ঘটনায় বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদলের হাত ট্রিগারেই আছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত: ইরান সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ : আইএমএফ বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী চুক্তি না হলে হামলার জন্য পুরোদমে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুরোনো ভাড়াই বহাল

রাজধানীর মিরপুরে মূল সড়ক গুলোর বেহাল দশা : জনদুর্ভোগ চরমে

সাইফুল ইসলাম মিলন :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৮৩ টাইম ভিউ

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা সড়কসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল মিরপুরে রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা দিন দিন নাগরিক ভোগান্তি চরমভাবে বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে মিরপুরের জাতীয় চিড়িখানা সড়কসহ আশপাশে রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মূল সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে জমে থাকা  পঁচা -গলা, বিৎঘুটে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন এখানকার নিত্যদিনের চিত্র।

এই এলাকায় অবস্থিত রয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন (উদ্ভিদ উদ্যান), ঢাকা কমার্স কলেজ, বিসিআইসি স্কুল এন্ড কলেজ, হযরত শাহ আলী (রঃ) মাজার, শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সরকারি বাংলা কলেজসহ বহু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাকে এসব অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, অনেক সময় ময়লার গন্ধে চলাচলই দুঃসহ হয়ে পড়ে, বিশেষ করে বর্ষার সময়ে রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়।

২৭ জুলাই (রবিবার) সারাদিন মিরপুরের চিড়িয়খানা সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ঘুরেফিরে দেখা গেছে, পাইকপাড়া সরকারী স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের মূল সড়ক, মুক্তিযােদ্ধা মার্কেট, কো-অপারেটিভ মার্কেট, বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সড়ক, সনি সিনেমা হলের অদূরে চিড়িয়াখানা সড়কের ঈদগাহৃ মাঠের পাশের মূল সড়ক দখল করে বসানো হয়েছে অস্থায়ী কাঁচাবাজার। ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্যের পশুরা সাজিয়ে বসে বেচাকেনা করছেন।

বিশেষ করে চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠের কোনার বাজারে কাঁচা মাছ, মরগী বিক্রি করায় এর পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি  ও ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে মূল সড়কে। এতে করে চরম ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌছে গিয়েছে।

এসময় মনিরুজ্জামান মনি নামে চিড়িয়াখানা সড়ক এলাকার স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক গুরুত্ববহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী নিয়মিত এ অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নাগরিকগণ নিয়মিত তাদের ভ্রমণে এসকল সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এসড়কগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।

আনোয়ার হোসেন নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এতে করে এসব অঞ্চলে নিয়মিত মশা মাছির উপদ্রব চরমভাবে বৃদ্ধিসহ নানা নানা রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশিই আক্রান্ত হচ্ছে রোগব্যাধিতে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, জ্বর, ডায়েরিয়া, কলেরা আশঙ্কাজনক হার বৃদ্ধি পাচ্ছে অঞ্চলজুড়ে।

কিরণমালা ও দিশারী পরিবহনের একাধিক চালক বলেন, চিড়িয়াখানা সড়কে আমরা নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করি। এসড়কে নিয়মিত যানযট লেগেই থাকে। বিশেষ করে শুক্রবার দিন এসড়কের চিড়িয়াখানার সামনে একবার ঢুকলে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা যানযটে পড়ে থাকতে হয়। সনি সিনেমা হলের মাত্র কয়েকশ গজ দূরে  ঈদগাহ্ মাঠের আশপাশে পচা-গলা ময়লা আবর্জনার বিৎঘুটে দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।

রতন খান নামে রাইনখোলার একজন বাসিন্দা বলেন, সকালে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। কিন্ত এলাকার মূল সড়কসহ ফটপাত দখল করে কাঁচাবাকার, মাছ বাজার বসায় রাস্তা ঘাটগুলো চরমভাবে নোংরা হচ্ছে। শিশু সন্তানদের নিয়ে পায়ে হেটে চলাও দুষ্কর! তাহমিনা আক্তার নামে একজন গার্মেন্টস কর্মী বলেন, প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় অস্থায়ী বাজারে বসা কিছু দোকানদার আমাদেরকে ইফটিজিং সহ নানাভানে হয়রানী করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এমন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে জনজীবনে স্থায়ভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এবিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল -২ এর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর