বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোট, জরিপে বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত জাপানি বিনিয়োগ ও জনশক্তি রফতানিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত :ট্রাম্পকে খোঁচা চার্লসের হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর ধান, বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়? প্রশ্ন জামায়াত নেতা আজহারের বিসিবি নির্বাচনের পরও তামিমকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান সাকিব মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ ব্যবহারের প্রস্তাব শামা ওবায়েদের গণভোটে জামায়াতের অবস্থান ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’: আইনমন্ত্রী বাড়াবাড়ি করলে বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার-আলশামস-আলবদর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর ধান, বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৭ টাইম ভিউ
হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর ধান, বাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি

টানা বর্ষণে হবিগঞ্জের চার উপজেলায় অন্তত পাঁচ হাজার একর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। যারা জমি থেকে ফসল কাটতে পেরেছেন, তাদের ধানও মাঠে ভিজছে। রোদ না থাকায় শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারছেন না কৃষক।

এ অবস্থায় বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলায় হাজার হাজার কৃষক অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন।হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির আশঙ্কা থেকে কৃষকদের আগেই সতর্ক করে পাকা ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।’’

“গেল কয়েকদিনে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে আমাদের মাঠের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।”

এদিকে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের নদ-নদীর পানিও ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই পানি হাওরে প্রবেশ করে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চারটি উপজেলায় যে ফসল তলিয়েছে সেখানে ১০-১২টি হাওর রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি।

এমনকি খলায় থাকা ধানও তোলা যায়নি গোলায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ডুবে যাওয়া জমি থেকে ধান উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেককে পানির নিচ থেকে ধান কেটে তুলতে দেখা যায়। এতে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, “কৃষকদের কান্না কেউ দেখছে না। সারা বছরের সোনালি ফসল এভাবে চোখের সামনে তলিয়ে যাবে ভাবতে পারছি না।”

তিনি বলেন, “আমার আট বিঘা জমির সবটুকু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে চলমু তা নিয়ে ভাবতেছি।”

নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ গ্রামের কৃষক রহমান উল্লাহ বলেন, “জমিতে ধান পেকে গেছিল। আর কদিন পরই ঘরে তোলার সময়। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও উজানের পানি দ্রুত জমিতে উঠে যায়। যে কারণে পাকা ধান জমিতেই তলিয়ে গেছে।”

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিরাট গ্রামের কৃষক জিহান আহমেদ বলেন, “আমাদের উপজেলা ভাটি অঞ্চল হওয়ায় বৃষ্টির পানিই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওরের সব নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত জেলার কোনো নদ-নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়নি। তবে বেশ কিছু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর