রাজধানীর পল্লবীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসা আক্তারের তীব্র শোকাহত ও বর্তমানে অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ওই অবুজ শিশুর ভাগ্যহীন বাবার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে যান।
সেখানে তিনি শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।কঠিন এই মানবিক ও পারিবারিক সংকটের সময়ে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন সহমর্মিতা নিহতের পরিবারকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।
এদিকে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত এই শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় সোমবার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আজ প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন। তবে শুনানির জন্য দুপুরে আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা উচ্চস্বরে চিৎকার করে পুরো ঘটনাটির জন্য ‘ডলার’ নামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ওপর সব দায় চাপানোর চেষ্টা করে।আদালত চত্বরে আসামির এমন উগ্র ও বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে উপস্থিত আইনজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে নতুন এক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।
আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দাবি করে যে সে নিজে শিশুটিকে ধর্ষণ করেনি, বরং ‘ডলার’ নামের ওই ব্যক্তি রামিসাকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। ঘাতক সোহেল কেবল শিশুটির মরদেহ টুকরো করার অপরাধ স্বীকার করে এবং মেইন অপরাধী ডলারকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। উল্লেখ্য যে গত উনিশ মে আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া এই স্পর্শকাতর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে।