মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টে মায়ের নামে করার প্রস্তাব নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পোস্টমর্টেম জরুরি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসার মা-বাবা শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে সম্পাদকদের নতুন সংগঠন চীনে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ কর্মকর্তা বিদ্যুতের দাম বাড়ছে কি না জানা যাবে বুধবার সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হলেন আলি আকবর খান হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত স্ত্রী ঋণখেলাপি হলেও খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান হতে বাধা নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক

আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসার মা-বাবা

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৩ টাইম ভিউ
আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসার মা-বাবা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা এবং অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বসেই সাক্ষ্য দেন তিনি।মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, ঘটনার দিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসার সামনে ভিড় দেখে তিনি তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে যান এবং জানতে পারেন তার মেয়ে পাশের ফ্ল্যাটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তিনি আদালতে বলেন, স্থানীয়রা দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে মূল দরজার লক খুলে দেন। ঘরে ঢুকে টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান তিনি।

পরবর্তীতে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষে স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান বলে জানান তিনি। সেই দৃশ্য দেখেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করলে তিনি থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

জেরার সময় তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া তার সব বক্তব্য নিজ চোখে দেখা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। আসামিদের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে একই আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বড় মেয়েকে ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যেতে বলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর শিশুদের কোনো শব্দ না পেয়ে তিনি ধারণা করেন তারা চলে গেছে।

তিনি বলেন, পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না।

চিৎকার করলে ভবনের লোকজন জড়ো হয়। পরে মোবাইল ফোন দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের ভেতরে স্বপ্না খাতুন চলাফেরা করছেন। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের কাছে রক্ত দেখতে পান সবাই।

আদালতে স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, “ওকে তখন বলেছিলাম, বোন দরজা খুলে দাও।” একই সঙ্গে সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”

জেরার সময় তিনি দাবি করেন, সোহেল রানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন এতে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন, সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আলোচিত এ মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর