সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরে সংসদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান চীফ হুইপের হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি সংরক্ষণে জাতীয় উদ্যোগের দাবি জোরালো কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ, মৃত বেড়ে ২৮ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে সুস্থতার পথে ইবরার টিপু প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ গোয়ালন্দে হালিম মিয়া কলেজের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরন, রোপন ও রেলী অনুষ্ঠিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জেলায় নতুন করে বন্যার শঙ্কা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হত্যার হুমকির পর ইরানকে পাল্টা হুমকি ট্রাম্পের ভোলায় পরীক্ষায় নকল করতে না পেরে কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের হামলা

হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি সংরক্ষণে জাতীয় উদ্যোগের দাবি জোরালো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

বিনোদন ডেস্ক:  বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণে নতুন করে দাবি উঠেছে। সাহিত্যপ্রেমী, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই স্রষ্টার কর্মপরিবেশ, ব্যক্তিগত সংগ্রহ, পান্ডুলিপি এবং স্মৃতিবাহী স্থাপনাগুলোকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আগামী ১৯ জুলাই তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া হুমায়ূন আহমেদ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেন। সহজ ভাষা, জীবন্ত সংলাপ এবং মধ্যবিত্ত জীবনের আবেগ-অনুভূতিকে কেন্দ্র করে লেখা তার উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তিন শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা এই সাহিত্যিক হিমু, মিসির আলি, শুভ্র ও রূপার মতো কালজয়ী চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রেও তিনি রেখে গেছেন স্বতন্ত্র অবদান।

সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, হুমায়ূন আহমেদের অবদান শুধু সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার বইকে ঘিরে দেশের প্রকাশনা শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল এবং বিপুলসংখ্যক নতুন পাঠক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে তার নির্মিত নাটক ও চলচ্চিত্র দেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে গাজীপুরের পিরুজালীতে অবস্থিত নুহাশ পল্লী, যা হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের ঠিকানা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই স্থানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃষ্টিবিলাস কটেজ, ট্রি-হাউস, শুটিং স্পট এবং তার সমাধি। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি এখানেই কাটিয়েছেন এবং বহু জনপ্রিয় উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা ও রচনা করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বরেণ্য সাহিত্যিকদের বাসভবন ও কর্মস্থল সংরক্ষণ করে জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। একইভাবে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোও সংরক্ষণ করা হলে তা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি তার পান্ডুলিপি, ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও ব্যবহৃত সামগ্রী আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তবে তার সৃষ্টিকর্ম আজও সমান জনপ্রিয়। সাহিত্যপ্রেমীদের বিশ্বাস, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তার স্মৃতি ও কর্মভূমি সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি স্রষ্টাকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর