জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বৃহৎ তরুণ জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে সময়োপযোগী নীতি, বিনিয়োগ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘Parliamentary Role in Realizing Population Dividend and ICPD Commitments’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। কর্মশালায় সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সময়ের আওয়াজ-এর হেড অব নিউজ জাবের আহমেদ রাইয়ান। বক্তব্যের শুরুতে চীফ হুইপ সাবেক স্পিকার ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ, দূরদর্শী নীতি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে না পারলে এই বিপুল জনশক্তি সম্ভাবনার পরিবর্তে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হতে পারে।
তিনি ১৯৯৪ সালের আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ICPD) অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে রাখতে হবে। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং নারী ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করলেও তিনি কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চীফ হুইপ বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে সরকারি কর্মসূচির তদারকি ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক খাতে অধিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা গেলে দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে নূরুল ইসলাম মণি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।কর্মশালায় সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।