জুলাইকে ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী এবং ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।’
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা কলেজের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ আ ন ম নজীর উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাশ্বত জুলাই’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জুলাই আমাদের নতুন করে শাণিত হতে, সংশোধিত হতে এবং সমৃদ্ধ জাতি হতে শিখিয়েছে। একই সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এ আন্দোলন ছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছে এবং সেই পরিবর্তন বাধ্যতামূলকভাবে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সূতিকাগার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার শিক্ষা দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন নিশ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সরকারও নিশ্চিত হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সমৃদ্ধ, মানসম্পন্ন ও শাণিত করা। জনগণের নির্বাচিত সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা কলেজ তার নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, অবকাঠামো, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঢাকা কলেজের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তর, পরিদপ্তর, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া ছিল একটি স্বপ্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আলোচনা সভার আগে শেখ রবিউল আলম ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক, কলেজের অধ্যক্ষ, সাবেক শিক্ষক, সাবেক ছাত্রনেতা, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।