গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় এই পরিস্থিতি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে এর পরপরই আগামী শনিবার থেকে উত্তরাঞ্চলে টানা পাঁচ থেকে সাত দিন বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আগের চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে সর্বোচ্চ একশো একানব্বই মিলিমিটার, কক্সবাজার সদরে আটাত্তর মিলিমিটার এবং হাতিয়ায় সত্তর মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় এগারো মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এদিকে তাপমাত্রার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বুধবার সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পঁয়ত্রিশ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানীতে ছিল চৌত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুই দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় আরও দুই দিন বৃষ্টি থাকতে পারে। পরবর্তীতে উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও আগের মতো টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই।সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন এলাকার গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় নদীবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে কেবল সিলেটের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁয়ে আছে। বাকি সব নদ-নদীর পানি ক্রমান্বয়ে কমছে।