দেশের দুই গুণী অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমিকে একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে নতুন শর্টফিল্ম ওয়েব কনটেন্ট ‘রঙিন সুরমা’য়। রিয়াজুল হক ইমরান পরিচালিত এই কনটেন্টটি আগামী ১২ আগস্ট রাত ১২টায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন এই কাজ নিয়ে আফসানা মিমি বলেন, নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরান যখন তাঁকে ‘রঙিন সুরমা’র চিত্রনাট্য পাঠান, তখন প্রথমেই নামটি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আগ্রহ নিয়ে গল্পটি পড়তে শুরু করার পর শেষ করেছেন আবেগাপ্লুত হয়ে।
মিমির ভাষায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটি শেষ হয়েছে। এখন দর্শকদের সামনে এটি উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে গল্পটির আবেগ ও নির্মাণের ধরনই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়।
আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, আফজাল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই আনন্দের। যাঁকে দীর্ঘদিন পর্দায় দেখে ভালোবেসেছেন, তাঁর সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ রোমাঞ্চের।
অন্যদিকে ‘রঙিন সুরমা’র গল্প প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, এটি মূলত দুজন মানুষ ও একটি সংকটকে ঘিরে তৈরি। গল্পের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রই বয়স্ক। বর্তমান সময়ে দর্শকদের আকর্ষণের জন্য অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ ও চমকপ্রদ গল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও ‘রঙিন সুরমা’ অপেক্ষাকৃত শান্ত, সংবেদনশীল ও অনুভূতিনির্ভর একটি গল্প বলার চেষ্টা করেছে।
নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরানের মতে, ‘রঙিন সুরমা’ দর্শকদের এমন একটি জীবনের কাছে নিয়ে যাবে, যেটিকে আমরা খুব পরিচিত ও স্বাভাবিক বলে অনেক সময় পাশ কাটিয়ে যাই। অথচ সেই সাধারণ জীবনের মধ্যেই বেঁচে থাকার গভীর অর্থ ও অনুভূতি লুকিয়ে থাকতে পারে।
নির্মাতা বলেন, দর্শকের মনে যদি গল্পটি দেখার পর কিছু প্রশ্ন থেকে যায় এবং তাঁরা নিজেদের জীবন ও সম্পর্ককে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন, সেটিই হবে ‘রঙিন সুরমা’র সবচেয়ে বড় সাফল্য। আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির অভিনয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের অনুভূতিগুলো আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে বলেও মনে করেন তিনি।
রিয়াজুল হক ইমরান আরও জানান, ‘রঙিন সুরমা’ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকের কথা মাথায় রেখে নির্মাণ করা হয়নি। বরং বয়স ও অভিজ্ঞতার পার্থক্যের কারণে গল্পটি দর্শকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ তৈরি করতে পারে। একই গল্প কেউ একভাবে দেখবেন, আবার অন্য বয়সের দর্শক সেখানে খুঁজে পেতে পারেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো অনুভূতি।
আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমির মতো দুই শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীর উপস্থিতি এবং জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের কারণে ‘রঙিন সুরমা’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন অপেক্ষা, মুক্তির পর দর্শকের কাছে এই সংবেদনশীল গল্পটি কতটা জায়গা করে নেয়।