ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষের পিটুনিতে আহত যুবদলের সাবেক এক নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজা মিয়া (৪০) মারা যান বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।নিহত রাজা মিয়া নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্টপুর এলাকার মমরোজ মিয়ার ছেলে। তিনি মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে রাজা মিয়াকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।
পরে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে রাজা মিয়ার স্ত্রী জোসনা আক্তার ১১ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয় আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। তাদের মধ্যে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—প্রধান আসামি কবির (৩০), বিনু (৩৮) ও নিশাত (২৫)। তারা নগরের কৃষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা।
মামলা থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি কবির ও তার লোকজনকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করে আসছিলেন রাজা মিয়া। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে নাস্তা খেয়ে রাজা মিয়া ঘরে শুয়ে ছিলেন।
এ সময় কবিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শাবল দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় আঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
তবে সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় রাজা মিয়াকে আবারও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চার দিন পর রাজা মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তবে পুলিশের ভাষ্য, দুটি পক্ষই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে কার নামে কতগুলো মাদক মামলা রয়েছে, তা জানা যায়নি।
ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের হোসেন শাকিল বলেন, “রাজা মিয়া যুবদলের ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় দলের সঙ্গে ছিলেন।
“তাকে যে বা যারাই হত্যা করেছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তবে রাজা মিয়া মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না।”
ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, লাশ মর্গে আছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।