বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা আ.লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই: জামায়াত আমির শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে যুবক ও তার দুই স্ত্রীকে এলাকাছাড়া করল গ্রামবাসী মোবাইলে যেভাবে দেখবেন এইচএসসির ফলাফল ইমরান খানের ‘ভারত ছাড়ার নির্দেশ’ স্থগিত করলেন আদালত চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা বিপি সিং চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ ‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাউজানে অস্ত্রের মুখে নারীর ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই! যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত

ডেঙ্গু বাড়ছে: সাধারণ জ্বর আর ডেঙ্গু কীভাবে চিনবেন, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

সময়ের আওয়াজ ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ টাইম ভিউ
ছবি সংগ্রহীত

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ আলাদা করে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাদের মতে, জ্বরের ধরন বুঝে চিকিৎসা না নিলে রোগীর জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণ জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ সেবন করা নিরাপদ। তবে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা অথবা ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারও বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২০ জনে। এদের মধ্যে ১০ হাজার ৯১১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে আপাতত শুধু প্যারাসিটামল সেবন করা উচিত। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, গিঁটে ব্যথা কিংবা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, ওষুধের দোকান থেকে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ কিনে না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুদের জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি বাইরে বের হলে ফুলহাতা জামা, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরানোর পরামর্শ দেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি করোনা, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগও বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ভয় না পেয়ে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ডেঙ্গু পরিস্থিতি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়ে গেছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর প্রতিরোধে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও অল্প গভীর পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পানি, টায়ার ও ছোট পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এদের প্রধান প্রজননস্থল।

তিনি জানান, সূর্যোদয়ের পরের প্রথম দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশার সবচেয়ে সক্রিয় সময়। তাই এই সময় বিশেষ সতর্ক থাকা এবং মশা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেন-৩ (DENV-3) সেরোটাইপ বেশি সক্রিয় থাকায় রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম-এর মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে রোগীর অবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুতর হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। পাশাপাশি জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো, চিকিৎসা নেওয়া এবং বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর