টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভারি বর্ষণের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দেশের অন্তত সাতটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানিও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে, যার ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাতটি জেলায় প্রায় ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন এবং আটটি পৌর এলাকায় দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্গত এলাকায় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দিয়েছে।
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।