দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি সরকারি ও সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বিকেল ৫টার পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পূর্বে তার হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এসব জটিল স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করছেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল।