শেরপুর-জামালপুরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক মো. আব্দুল বার্সেদ।
দীর্ঘ শিক্ষকতা, একাডেমিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ অধ্যাপক আব্দুল বার্সেদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।অধ্যাপক মো. আব্দুল বার্সেদ তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন শেরপুরের শ্রীবরদীর গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৮৭ সালে তিনি এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে বিএসসি অনার্স এবং ১৯৯৩ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা। সেখানে প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালনের পর তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।এরপর ২০০৮ সালে তিনি যোগ দেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুরে। এই প্রতিষ্ঠানেই তিনি দীর্ঘ সময় সহকারী অধ্যাপক ও পরবর্তীতে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আশেক মাহমুদ কলেজে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, একাডেমিক ম্যানেজমেন্ট কমিটি, রুটিন কমিটি, ডিজিটাল টিম এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ শিক্ষকতার পাশাপাশি কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়ে তিনি আবারও সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিনি সরকারি হাজী জলাল মামুদ কলেজ, নকলা, শেরপুরের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে প্রায় দুই বছর দশ মাস প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার পর এবার তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর পরিচিত সেই সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে—তবে এবার শিক্ষক হিসেবে নয়, অধ্যক্ষ হিসেবে।
অধ্যাপক আব্দুল বার্সেদের এই দায়িত্ব গ্রহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—তিনি এই কলেজের একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত। দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে দায়িত্ব পালন এবং অন্য একটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।
ফলে নতুন দায়িত্বে তাঁর সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা—শিক্ষার মানোন্নয়ন, একাডেমিক শৃঙ্খলা জোরদার, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও কার্যকর শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষক হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক, সেই প্রতিষ্ঠানেই এবার নেতৃত্বের দায়িত্বে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
কলেজের অধ্যায়নরত একজন শিক্ষক বলেন, “তিনি এই কলেজের দীর্ঘদিনের শিক্ষক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। এর সঙ্গে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ আরও এগিয়ে যাবে – এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রত্যাশা। তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ও মানসম্মত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কলেজে শৃঙ্খলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই কলেজের পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত হোক। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ুক। নতুন অধ্যক্ষ স্যারের অভিজ্ঞ নেতৃত্বে আমরা ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি।”
অভিজ্ঞতা, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে অধ্যাপক মো. আব্দুল বার্সেদের নেতৃত্বে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ নতুনভাবে আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের।।