প্রযুক্তির নির্মম গ্রাসে আমাদের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগৎ থেকে একে একে হারিয়ে যাচ্ছে বহু পুরনো ঐতিহ্য। নব্বইয়ের দশক কিংবা তার আগের প্রজন্মের কাছে এক আবেগের নাম ছিল অডিও ক্যাসেট। টেপরেকর্ডারের বোতাম টিপে গান শোনার সেই দিনগুলো আজ কেবলই স্মৃতি। আধুনিক স্ট্রিমিং ও পেন্টাবাইট মেমরির যুগে সেই চিরচেনা অডিও ক্যাসেট আজ পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে।
নস্টালজিয়ায় মোড়ানো একটি সনি এমসি-৬০ (Sony MC-60) মাইক্রোক্যাসেট। একসময়ের গান শোনার বা গোপনে প্রয়োজনীয় তথ্য, সংবাদ সংগ্রহ, মিটিং কিংবা ইন্টারভিউ রেকর্ড করার এই যন্ত্রটি আজ প্রযুক্তির বিবর্তনে জাদুঘরে ঠাঁই নিচ্ছে,
সাম্প্রতিক সময়ে সংগৃহীত একটি স্বচ্ছ লাল রঙের “Soundtech Special” ব্রান্ডের ৭০ মিনিটের এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাসেটটি যেন সেই হারিয়ে যাওয়া সোনালী অধ্যায়েরই এক জীবন্ত দলিল।
একসময় এই ছোট ফিতেগুলোর ভেতরেই বন্দি থাকত হাজারো গান, প্রেমের চিরকুট বা প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠস্বর। টেপের ফিতে জট লেগে গেলে তা পেন্সিল দিয়ে ঘুরিয়ে ঠিক করার সেই নিখাদ ব্যস্ততা আজ ম্লান। যুগের হাওয়া আর ডিজিটালাইজেশনের কল্যাণে পকেট আকৃতির এমপি থ্রি প্লেয়ার বা মুঠোফোনের এক ক্লিকেই এখন সব গান পাওয়া যায়। ফলে হারিয়ে গেছে টেপরেকর্ডারের সেই ঘড়ঘড় শব্দ আর ক্যাসেটের টেপ বদলানোর রোমাঞ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের বিবর্তনে পুরনো এই মাধ্যমগুলো এখন জাদুঘর কিংবা সংগ্রাহকদের ড্রয়িংরুমের শো-পিস ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানেই না কীভাবে একটি ক্যাসেট টেপরেকর্ডারে ঢুকিয়ে গান শুনতে হয়।
পুরনো এই ক্যাসেটটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতির কথা, যার ভিড়ে হারিয়ে গেছে আমাদের শৈশব ও কৈশোরের মধুর কিছু মুহূর্ত।