রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড তোড়াইড় মোড় নামক এলাকায় মাদক বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে শরিফুল ইসলাম হিরা (৪০) নামে যুবলীগ নেতা ছুরিকাঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। নিহত শরিকুল ইসলাম হিরা (৪০) পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাজী পাড়া গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন। নিহত শরিফুল গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত জাবেদ ভূইয়ার ছেলে। তারা তিন ভাই- মানিক, মুক্তা ও হিরা। শরিফুল ইসলাম হিরা সবার ছোট।
নিহতের ঘটনায় হত্যাকারী কামরুল ফকির (৩৬) কে রাজবাড়ী গোয়েন্দা শাখা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ খুনের দুই ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। হত্যাকারী কামরুল ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার রেলওয়ে স্টেশনের তোরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশের ভাষ্যমতে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম হিরা ও কামরুল ফকির দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শরিফুল ও কামরুলের মধ্যে মাদক বিক্রির ৬ হাজার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। জানা যায়, শরিফুলের কাছে কামরুল ৬ হাজার টাকা পেতেন। সপ্তাহখানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। দুদিন আগে বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলার সূত্রে ধরে শনিবার সকালে নিহত শরিফুল গোয়ালন্দ বাজার থেকে বাজার শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ী ফেরার সময় তোরাইড় মোড় এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে তাকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে কামরুল ফকির পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় প্রধান হত্যাকারী কামরুল ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনীর ভাষ্যমতে জানা যায়, দু-তিন দিন ঘুরে পাওনা টাকা না পাওয়ায় তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।