সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত ঘোষণা আগামীকাল ,টিকিট পাচ্ছেন কারা? জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ শিগগিরই হবে ১০ম ওয়েজ বোর্ড, সংসদে তথ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে ৮ শিশু নি‍‍হত তেলের দাম না বাড়ালে, সরকার দেশ চালাবে কী করে?: অর্থমন্ত্রী দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু বেইলি রোড ট্রাজেডি : ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির

এক বছরে সাগর পথে ৯০০ রোহিঙ্গা মৃত বা নিখোঁজ: ইউএনএইচসিআর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫ টাইম ভিউ
এক বছরে সাগর পথে ৯০০ রোহিঙ্গা মৃত বা নিখোঁজ: ইউএনএইচসিআর

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থ (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ-এর বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “২০২৫ সাল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর।”

চলতি বছরও এই মৃত্যুর ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বের হয়েছেন। সম্প্রতি টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রলার ডুবে প্রায় ২৫০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অতিরিক্ত যাত্রী ও উত্তাল সমুদ্রের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানানো হয়।

ইউএনএইচসিআর জানায়, গত বছর ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা এই বিপজ্জনক পথে যাত্রার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মারা গেছেন। বর্তমানে বিশ্বে শরণার্থীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এ রুটেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি।

সংস্থাটি আরও জানায়, ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছেন। গত এক দশকে এ পথে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর যেন রোহিঙ্গাদের জন্য এক অচিহ্নিত কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।

কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

রোহিঙ্গারা সাধারণত কক্সবাজার-এর জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাখাইনে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তাদের দেশে ফেরার সুযোগ নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষা ও জীবিকার সংকট এবং মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যাত্রাকারীদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। সংস্থাটি জানায়, জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি এবং মানবপাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সংকটের মূল কারণ সমাধান না হলে সাগরপথে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর