রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার একটি জমি নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্যজনক পরিস্থিতি। প্লটের দেয়াল ভাঙার অভিযোগে আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হাসান জীবন (ওরফে লেদু হাসান)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখন উল্টো প্রশ্নের মুখে। মামলার বাদী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক নেতাকে জড়িয়েছেন হাউজিং কর্তৃপক্ষের নির্দেশে!
‘নিজে থেকে নয়, হাউজিংয়ের এমডির নির্দেশেই মামলা দিয়েছি’—বাদী সোলায়মান
মামলার বাদী মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “এই জায়গা নিয়ে আমাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। চাচা বিএনপি করার কারণে জায়গাটা আগে হাউজিংয়ের পুরনো এমডি সারোয়ারের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে সরকার পরিবর্তনের পর আমরা হাউজিংয়ের কাছে যাই—তারা বলে, জায়গা আমাদের দখলে দিতে পারবে। তাদের নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর আমরা দেয়াল নির্মাণ শুরু করি। কিন্তু রাতে কেউ দেয়াল ভেঙে ফেলে। এরপর হাউজিংয়ের বর্তমান এমডি মনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার ইমরান আমাকে বলে, ‘মনোয়ার হাসান জীবনের বিরুদ্ধে মামলা দিতে।’ তাদের কথাতেই আমি মামলা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের দেখায়নি। পরে বুঝতে পারি, মনোয়ার ভাইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন মনে হচ্ছে, হয়তো আমাদের ভুল পথে চালিত করা হয়েছে।”
‘রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র’—মনোয়ার হাসান জীবন
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মনোয়ার হাসান জীবন জানান, “আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই হাউজিং কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে আমার নাম মামলায় জুড়ে দিয়েছে। বাদীও এখন বলছেন—তাকে চাপ দিয়ে মামলা করানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত, এটি একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বহু বছর ধরে মোহাম্মদপুর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে আছি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আমাদের রাজনৈতিকভাবে নিস্ক্রিয় করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এই মামলাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।”
প্রমাণ নেই, সিসিটিভিও নেই—তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইসলাম মল্লিক জানান, এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। “হাউজিং থেকেও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই,” বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং শিগগিরই আদালতে ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করা হবে।
‘নিজেদের দোষ ঢাকতেই হাউজিং কর্তৃপক্ষ দোষ চাপাচ্ছে’
স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রিমা মডেল হাউজিং কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল ও জটিল জমি বেচাকেনার দায় এড়াতেই বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ মামলা সাজিয়েছে। হাউজিংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ভুল দাগে প্লট বিক্রি ও নির্মাণ অনুমতির জটিলতা ঢাকতেই মনোয়ার হাসান জীবনের নাম মামলায় ঢোকানো হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রমাণহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হাউজিং কর্তৃপক্ষের প্রভাবে করা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি নেতা মনোয়ার হাসান জীবন। তদন্তে যদি বাদীর বক্তব্য ও প্রমাণের অভাব সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি হবে মোহাম্মদপুরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর একটি স্পষ্ট উদাহরণ।