সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। ব্রিফিংয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম এবং সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত থেকে আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তদন্ত শেষ পর্যায়ে, রয়েছে শাপলা চত্বর ও একরাম হত্যার যোগসূত্র
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রত্যেকটি অপরাধের সাথেই তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “বেনজীর আহমেদ যখন র্যাবের প্রধান ছিলেন, তখনকার গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং কিছু মামলার বিচারও চলমান আছে। এছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার অন্যতম কুশীলব ছিলেন তিনি। ওই ঘটনার তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।”
বক্তব্যে চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “কাউন্সিলর একরাম হত্যাকাণ্ডের সাথেও বেনজীর আহমেদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। র্যাব ও পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অসংখ্য অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন।”
ফেরানোর প্রক্রিয়া: এনসিবি ও ইন্টারপোলে চিঠি পলাতক এই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল থেকে জারিকৃত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) কপি ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা তদন্ত সংস্থা থেকে এনসিবিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাব। সেখান থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস বা প্রয়োজনীয় কালার কোড নোটিস জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে এই আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।