দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৮ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৫৬ জনের। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গভিত্তিক হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে এবং সিলেট বিভাগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে শুধুমাত্র উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় মারা গেছে আরও তিন শিশু।
একই সময়ে দেশে নতুন করে ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনে। তবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। গত একদিনে ১ হাজার ১০৫ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, র্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।