মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর একটি করে গাছ লাগাতে অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর সংসদ তোষামোদের জায়গা নয়, ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয়: বিরোধীদলীয় নেতা সুস্থ হয়ে উঠছেন মির্জা আব্বাস চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিলের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর বিরোধী দলের সদস্যরা ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাবেন: মির্জা ফখরুল নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকে শতভাগ বেসিক বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের ভয়াবহ গরমে ইউরোপে জরুরি সতর্কতা, ফ্রান্সে মৃত্যু হাজার ছাড়াল ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৫৯২ মামলা কাঁচাবাজার-ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের বাইরে থাকবে : অর্থমন্ত্রী

কাঁচাবাজার-ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের বাইরে থাকবে : অর্থমন্ত্রী

আওয়াজ অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৭ টাইম ভিউ
কাঁচাবাজার-ক্ষুদ্র মুদি দোকান ভ্যাটের বাইরে থাকবে : অর্থমন্ত্রী

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় প্রথমবারের মতো ৪ লাখ কোটি টাকার মাইলস্টোন অতিক্রম করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় গৃহীত নানা পদক্ষেপের কারণে রাজস্ব খাতে এই গতিশীলতা এসেছে উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকানকে সম্পূর্ণভাবে এই ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হবে।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অধিবেশনে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করা সম্ভব। সরকার করের হার বৃদ্ধি না করে করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে চায়। রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে করদাতা বান্ধব করা এবং রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই লক্ষ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং বিনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং হয়রানি বন্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তবে কাঁচাবাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান এই ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্পসহ সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ দূর করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অসাধু চক্রের কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে, যা ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।”

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “প্রবৃদ্ধি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি অর্থনীতির সামগ্রিক কার্যক্রম, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আস্থার প্রতিফলন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি ও আইসিটিসহ সেবাখাত এবং সব প্রতিশ্রুতিশীল খাতের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতসমূহকে মূলধারায় এনে দেশব্যাপী উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা হবে, যা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে।

সরকার ক্রমান্বয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ হতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরদিকে পরিচালন ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরগুলোতে উন্নয়ন ব্যয়ের এই অংশ আরো বৃদ্ধি এবং পরিচালনা ব্যয়ের অংশ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর